Skip to main content

Posts

Showing posts with the label রোজা

রোযা ও সদাচরণ (রমযানের শিক্ষা ২৩)

রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে যে রমযান আমাদের মাঝে এসেছিল তা বিদায়ের পথে। আমরা কতটুকু অর্জন করতে পারলাম তার হিসাব মেলানো দরকার। আমাদের পাপরাশি মিটিয়ে দেয়া ও নেকির পাল্লা ভারি করা ও জীবনাচার পরিশুদ্ধ করার এক অপূর্ব সুযোগ নিয়ে এসেছিল এই রমযান ও রোযা। রোযা সব পাপাচার থেকে আমাদেরকে হেফাজত করবে। সে শক্তি রোযার ছিল। রোযা তো এজন্যই ফরজ করা হয়েছে যাতে মানুষের মাঝে তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়। আল্লাহর ভয়ই পারে মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখতে ও আল্লাহর বিধান মেনে চলার শক্তি যোগাতে। কত চমৎকারভাবেই না রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : ‘রোযা একটি ঢাল। তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখবে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে ও অভদ্র আচরণ না করে। কেউ যদি তার সাথে মারামারি বা গালাগালি করতে আসে তবে সে যেন দু’বার বলে আমি রোযাদার’- বুখারি ও আবু দাউদ। ঢাল তো তাই যা যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর আক্রমণ থেকে একজনকে রক্ষা করে। রোযাকে ঢাল হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে রসুল (সা) রোযার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন। রোযা রাখার মাধ্যমে একজন রোযাদারের উপলব্ধি তো এটিই, সে আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে নয় এবং সে যদি গোপনে পানাহার বা যৌন চাহিদা পূরণ করে তা...

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার এটিই সুযোগ (রমযানের শিক্ষা ২২)

আমরা এখন রয়েছি রমযানের শেষ দশকে। এই দশকেই রয়েছে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর, যার মর্যাদা আল্লাহর ভাষায় হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। জিবরাইল (আ) ফেরেশতামন্ডলিকে সাথে করে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ফজরের উদয় পর্যন্ত থাকে রাতটি শান্তিময়। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে উদার হস্তে দিতে চান। শুধু চেয়ে নেয়ার দরকার। বান্দাকে শাস্তি দেয়ার জন্য আল্লাহ কখনো বাহানা তালাশ করবেন না, বরং ক্ষমা করার জন্য উপায় তালাশ করবেন। ক্ষমা প্রাপ্তির বড় সুযোগটি আসে তাওবা (গুনাহ থেকে ফিরে আসা) ও এস্তেগফারের (ক্ষমা চাওয়া) মাধ্যমে। হতাশ হবার কিছু নেই। গুনাহের পাল্লা যতই ভারি হোক, বান্দাহ যদি তাওবা করে ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাহলে পূর্বের অপরাধের জন্য বান্দাহ আর শাস্তিযোগ্য থাকে না। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বান্দার ঈমান। ঈমান পরিশুদ্ধ হতে হবে। আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ এবং ইসলামকে একমাত্র দ্বীন (ধর্ম) হিসেবে মেনে সকল ব্যবস্থাপনাকে অস্বীকার করার মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ। বান্দার কাছ থেকে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কখনই আল্লাহ কবুল করবেন না। আল্লাহর বাণী, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন ...

রোযা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম

  ‘ রমযান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হেদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। অতএব এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে তার জন্য পূর্ণ মাস রোযা রাখা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করতে চান, কঠোর হতে চান না। তাই তোমাদেরকে এ পদ্ধতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হেদায়াত দান করেছেন সেজন্য তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে ও তার স্বীকৃতি দিতে পারো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও ’ - সূরা আল বাকারা ১৮৫-১৮৬। এখানে স্পষ্ট, রমযান মাসের এতো ফজিলত ও মর্তবার পেছনে কারণ একটিই এবং তা হলো এই মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সেরা উপহার। আর কুরআনকে পাঠানো হয়েছে মানবজাতির হেদায়াত (পথপ্রদর্শন) হিসেবে; কুরআনকে মেনে চলার মত যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রোযা ফরজ করা হয়েছে। কুরআনকে বাদ দিয়ে রমযানের কোনো আলাদা মর্যাদা নেই বা এ মা...

দুর্নীতি রোধে রোযা ও কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা

দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একজন গরীব দুধবিক্রেতা সুযোগ পেলেই তার দুধে পানি মেশাচ্ছে, মাছবিক্রেতা পচা মাছটি ভালো মাছ বলে বিক্রি করছে বা ওজনে কম দিচ্ছে, ফলবিক্রেতা ফরমালিন মেশাচ্ছে বা ক্রেতার অজ্ঞাতসারে পচা ফলটা দিয়ে দিচ্ছে। আর বড় বড় রাঘব-বোয়ালদের চুরি তো রয়েছেই। সেটি পুকুর চুরি নয়, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর ভাষায় সাগর চুরি। রাজনীতিক, সরকারি আমলা, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক কেউ দুর্নীতির উর্ধে নয়। রমযান মাস ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ত্রাণ চুরির অভিযোগে অনেক জনপ্রতিনিধিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ আমরা শুনি, বিশ্বের সবচেয়ে ধর্মভীরু দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এটি কি তারই প্রমাণ বহন করে? এদেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ মুসলমান। পবিত্র রমযান মাসে হাতে গোনা ২/১ জন বাদে সবাই রোযা রাখে। করোনার এই লকডাউনে মসজিদ খুলে দেয়ার আকুতিও কম নয়। তাহলে আমাদের নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত কি কোনোই মূল্য বহন করে না। আল্লাহপাক আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁরই গোলামী করার জন্য এবং এই গোলামী করার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না। তাঁর দাবী, ‘ আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাগুতকে অস্বীকার করো ’ -সূরা নহল...

রোযা মানুষের অন্তরে প্রশান্তি দান করে

রমযান মাসকে পাওয়ার লক্ষ্যে প্রিয়তম নবী (সা) ও তাঁর সাহাবীরা (রা) রজব মাস থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন এবং রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করতেন। মু ’ মিন বান্দারা আল্লাহপাকের অজস্র রহমতে সিক্ত হয়ে উঠে এ মাসে। প্রকৃতির রাজ্যেও বিরাজ করে এক শীতলতা। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে রোযা কিন্তু আবহাওয়ার সেই রুক্ষতা নেই। শুধু এ বছরই না, অতীতেও তাই দেখা গেছে। ফলে অত্যন্ত প্রশান্তচিত্তে মু ’ মিন গুনাহমুক্ত এক নতুন জীবন লাভের আশায় রোযা পালনসহ ইবাদত-বন্দেগীতে নিয়োজিত হয়ে পড়ে। বান্দাহ যখন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে ও নিজের গুনাহ ক্ষমা করে নেয়ার সুযোগ পায় সে তখন অন্তরে এক প্রশান্তি অনুভব করে। এ প্রশান্তি আল্লাহর হুকুম পালন, নিজের গুনাহ ঝেড়ে ফেলা ও নেকির পাল্লাকে ভারি করার আল্লাহর প্রতিশ্রুতি লাভের ফল। আল্লাহপাক তাঁর নবীর মাধ্যমে কতভাবেই না রোযাদারকে সুসংবাদ দান করেছেন। রমযানের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। রোযা রাখার মধ্য দিয়ে রোযাদার সব ধরনের পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে। কোনো নিন্দাবাদ নেই, ঝগড়াঝাটি নেই, মনোমালিন্য নেই এবং এর ফলে দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন এবং সামাজিক জীবনে...

রমযান : কুরআন নাযিল ও বিজয়ের মাস

রমযাস মাসেরই এক মহিমান্বিত রজনীতে মহান আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ (সা)-এর উপর অবতীর্ণ হয় সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন। মানবজাতির জন্য আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো হেদায়াত। আদি পিতা হযরত আদম (আ)-কে বেহেশত থেকে চলে আসার কথা বলা হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অভয়বাণী শোনানো হয়, ‘আমার পক্ষ থেকে যে হেদায়াত যাবে যারা তা অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই’। যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রসুল ও কিতাব দুনিয়ার বুকে প্রেরিত হয়েছে এবং সর্বশেষ রসুল হলেন মুহাম্মদ (সা) ও সর্বশেষ কিতাব হলো আল কুরআন। মুহাম্মদ (সা) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং সততা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে তাঁর জাতির কাছ থেকে আল-আমিন ও আস-সাদিক খেতাবপ্রাপ্ত। তিনি ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ বন্ধু ও কল্যাণকামী এবং বিবাদ-বিসংবাদের মিমাংসাকারী ও মাল-সম্পদের হেফাজতকারী। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! নবী হওয়ার পর জাতির কাছে ইসলামের দাওয়াত দানের সাথে সাথে তিনি ভয়ানক শত্রু হয়ে পড়েন। সুদের বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই, পর্দাহীনতার বিরুদ্ধে কথা নেই, দাসপ্রথার বিরুদ্ধেও কোনো কথা নেই, সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে তিন...

রমযান : সহানুভূতি প্রকাশের মাস (রমযানের শিক্ষা ১৪)

মানুষ আল্লাহর সকল সৃষ্টির সেরা, তাঁর বান্দাহ ও প্রতিনিধি (খলিফা)। নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো, খাটো-লম্বা, বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, নানা বর্ণ, ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গের পার্থক্যসহ তাঁর এই সুন্দর বাগান। মানবিক মর্যাদায় কোনো পার্থক্য নেই, পার্থক্য শুধু নীতি-নৈতিকতায় (তাকওয়া)। কত বৈচিত্র্যপূর্ণ তাঁর সৃষ্টি। কারো চেহারার সাথে কারো চেহারার মিল নেই, মিল নেই কণ্ঠস্বরে, এমন কি চিন্তা-চেতনা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপেও। এ সবই সাক্ষ্য বহন করে তাঁর অসীম শক্তিমত্তা ও কলা-কৌশলের। সবাইকে একই মতাদর্শ, একই বর্ণ বা সব দিক দিয়ে সমান করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু তা তিনি করেননি। তিনি চান বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, এতো কিছু পার্থক্যসহ সমঝোতা ও পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে একটি সুখি ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে তাঁরই প্রতিনিধি এই মানবসমাজ। প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে যারা স্রষ্টার কাছে ফিরে যাবে তাদের জন্য থাকবে অফুরন্তু সুখ-সম্ভোগেপূর্ণ চিরন্তন জান্নাত, আর যারা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করে নিজেই মালিক হয়ে বসবে বা কোনো সীমালঙ্ঘনকারীর (তাগুত) আনুগত্য করবে তাদেরকে দ...

কুরআন ও রমযানের সম্পর্ক

রমযানের ফজিলত সম্পর্কে আমরা সবাই অবহিত। এ মাসটিকে বলা হয় রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের মাস। অজস্র ধারায় রহমত বর্ষিত হয় আল্লাহর বান্দাদের প্রতি। এ মাসের একটি ফরজ অন্য সময়ের ৭০টি ফরজের সমান এবং একটি নফল অন্য সময়ের একটি ফরজের সমান। এ মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। মানুষের চিরশত্রু শয়তানকে এ মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এ সবই আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মদ (সা) থেকে জানা। এখন প্রশ্ন জাগে, এ মাসের এতো ফজিলত ও মর্তবার কারণ কী? আল্লাহ নিজেই তার জবাব দিয়েছেন। ‘ রমযান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হেদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। অতএব এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে তার জন্য সম্পূর্ণ মাসটি রোযা রাখা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করতে চান, কঠোর হতে চান না। তাই তোমাদেরকে এ পদ্ধতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ ...

রোযার সাথে দুআর সম্পর্ক

রমযানের প্রথম অধ্যায় (রহমত) অতিক্রম করে আজ শুরু হচ্ছে মাগফিরাতের অধ্যায়। রমযান আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্তির মাস। বান্দার অপরাধ ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যারা ঈমান ও এহতেছাবের সাথে রোযা রাখবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। গুনাহ ক্ষমা করে নেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। আল্লাহপাক তাঁর সকল বান্দার দুআ বা প্রার্থনা কবুল করেন। তারপরও হাদিসে কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে যাদের দুআ কবুল হয়। এর বর্ণনা বিভিন্ন হাদিসে বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। যেমন, সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দুআ, মজলুমের দুআ, অসুস্থ মানুষের দুআ, রোযাদারের ইফতারের পূর্বের দুআ, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ, পিতা-মাতার জন্য সন্তানের দুআ, একজন মুসলমান কর্তৃক তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দুআ। আল্লাহপাক যে তাঁর বান্দার প্রার্থনা কবুল করেন তা তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন। ‘আর হে নবী! আমার বান্দারা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাহলে তাদেরকে বলে দাও, আমি তাদের অতি নিকটে। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দেই, কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেয়া এবং আমার ওপর ঈমান আনা ত...

রোযায় সুফল পাওয়া যায় না কেন?

রমযানের প্রথম দশক রহমতের অধ্যায় আজ শেষ হতে যাচ্ছে। শতভাগ না হলেও মোটামুটি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রয়েছে এমন সবাই রমযানের রোযা আদায় করে বলে আমার ধারণা। নিরেট নাস্তিক (হাতে গোণা) হয়তো এই বরকত থেকে মাহরুম থাকে। তবে এটা ঠিক, আল্লাহপাক যে উদ্দেশে তাঁর বান্দাদের প্রতি রোযা ফরজ করেছেন (তাকওয়া অর্জন) সেটির প্রতি খেয়াল রেখে রোযা পালনের সংখ্যা খুবই নগন্য। যার কারণে নামায ও রোযার মত এতো কার্যকর ইবাদত থেকে সুফল লাভে মুসলমানরা বঞ্চিতই রয়ে যাচ্ছে। ইসলাম আল্লাহপাক প্রদত্ত এক পূর্ণাঙ্গ দ্বীন এবং তিনি মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। চেতনা লাভের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অর্থাৎ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় সকল অবস্থায় আল্লাহর দ্বীন অনুসরণই মূলত বান্দার দায়িত্ব এবং যারা মেনে চলে তাদেরই নাম মুসলিম (অনুগত)। আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক হলো মনিব ও গোলাম এবং মালিক ও খলিফার। আল্লাহর সার্বক্ষণিক গোলামীর জন্য যে জিনিসটি খুব প্রয়োজন তা হলো মনিবের স্মরণ ও তাঁকে ভয় করা। নামায দৈনিক পাঁচবার আল্লাহর কথা স্মরণ করে দেয় এবং বুকে হাত বেঁধে নামাযী এ প্রতিশ্রুতিই বারবার প্...

ক্ষমার মাস মাহে রমযান

রহমত , মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে রমযানুল মুবারক । বৈশাখের এই খরতাপে বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহপাক আবহাওয়ার কাঠিন্য দূর করে অনেকটা শীতলতা দান করেছেন। অবশ্য আবহাওয়ার রুক্ষ্ণতা রোযাদের রোযা পালনে কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তাই দেখা যায়, যাদের মাঝেই ঈমান রয়েছে এমন কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে রোযা পালন করে। রমযানে যারা রোযা রাখে তাদের প্রতি আল্লাহতায়ালার রহমত অজস্রধারায় বর্ষিত হয়। আল্লাহ তাঁর বান্দার গুনাহ মাফ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন । বান্দাকে শাস্তিদান আল্লাহর অভিপ্রায় নয়। বান্দার পক্ষ থেকে দরকার শুধু মাফ চাওয়া। ক্ষমার মাস এই রমযান। রসুল ( সা ) বলেছেন - ‘ যারা ঈমান ও এহতেছাবের সাথে রোযা রাখবে আল্লাহ তাদের অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন ’ । তিনি আরো বলেছেন- ‘ যে লোক রমযান মাস পেল অথচ নিজের গুনাহ মাফ করে নিতে পারলো না , সে যেন ধ্বংস হয় ’ । মূলত তাকওয়া অর্জনের লক্ষ্যে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি রোযা ফরজ করেছেন এবং তা নিজেদের মধ্যে অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া সম্ভব। আমরা এবারে এক ভিন্নতর পরিবেশে রোযা পালন করছি। র...

রোযা পালনের সাথে সাথে পিতা-মাতার সেবা ও রসুল (সা)-এর ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব

রসুলুল্লাহ (সা) একদিন মসজিদের মিম্বরে আরোহন করার সময় প্রতি ধাপে আমিন বলেন। সাহাবায়ে কেরাম (রা) আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসুলুল্লাহ (সা)! আপনি আমিন আমিন বলছেন কেন? জবাবে রসুলুল্লাহ (সা) বলেন, এইমাত্র জিবরাইল (আ)আমাকে বলে গেলেন, যে লোক রমযান মাস পেল অথচ নিজের গুনাহ ক্ষমা করে নিতে পারলো না সে যেন ধ্বংস হয়। আমি বললাম,আমিন। তিনি আরো বলেন, জিবরাইল (আ)আমাকে বললেন, যে লোক তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা দুই জন বা কোনো একজনকে জীবিত অবস্থায় পেল অথচ তাদের খেদমত করে জান্নাত লাভ করতে পারলো না, সে যেন ধ্বংস হয়। আমি জবাবে বললাম, আমিন। তিনি আরো বলেন, জিবরাইল (আ)আমাকে বলে গেলেন, যার সম্মুখে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ দরুদ পড়লো না সে যেন ধ্বংস হয়। আমি বললাম, আমিন। মুসলিম শরীফ ২৫৫১ ও তিরমিযী শরীফ ৩৫৪৫। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস।এই হাদিসে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, আর এ কথাগুলো রসুল (সা)-এর নয় বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ)-এর কথা এবং তিনি তা সমর্থন করেছেন। রমযান মাসের প্রথম দশক অতিবাহিত হচ্ছে। এ মাসটি পুরোটাই আল্লাহর রহমত ও বরকতে ভরপুর। এই মাসের বিশেষত্ব হলো, আল্লাহর অনুগত বান্দাদ...

রমযানে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি সদয় হওয়া

রমযান মাস নেকি কুড়াবার এক মওসুম। এ মাসে যে কোনো নেক আমলের প্রতিদান অন্য সময়ের তুলনায় ৭০ গুণ বেড়ে যায়। রসুল (সা) ছিলেন একজন দরদী মানুষ। তিনি সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত দয়ার্দ। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর দয়া অনুগ্রহের কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষ আল্লাহর বন্ধু। ওরা তোমাদের ভাই। এই রমযানে তিনি তাদের কাজ হালকা করে দিতেন। তিনি তাঁর বাড়িতে থাকা জায়েদ বিন হারেসার সাথে উত্তম আচরণের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে বিরল। জায়েদ ছিলেন একজন ক্রীতদাস, কিন্তু আল্লাহর রসুল (সা) তাঁর সাথে সন্তানের মত ব্যবহার করতেন। সবাই পালক পুত্র হিসেবেই জানতো। পিতাসহ আপন পরিবার জায়েদকে নিতে আসলে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে রসুল (সা)-এর কাছে থেকে যাওয়াটাই তিনি পছন্দ করেছিলেন। আজ ১ লা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমঘন্টা কমানোসহ সম্মানজনক জীবন যাপনের লক্ষ্যে শ্রমিকদের আন্দোলন ও জীবনদানের স্মৃতি বহন করে আছে এ দিনটি। বিশ্বসমাজ শ্রমিকদের আত্মদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবারে এ দিনটি পড়েছে পবিত্র রমযান মাসে। করোনার ভয়াল থাবায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়...