Skip to main content

Posts

ইসালে সওয়াবের সুন্নাত সমর্থিত পদ্ধতি

 জুমার খুতবা ২৬.০৫.২০২৩ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম মাল্টিপ্ল্যান রেডক্রিসেন্ট সিটি (কুশিয়ারা, পদ্মা ও সুরমা ভবন), মিরপুর জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ সাইয়াফ শুরুতে আল্লাহপাকের হামদ ও রসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন। তিনি বলেন, মুমিনরা সবসময় আখিরাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করে। পক্ষান্তরে কাফিররা দুনিয়ার জীবনটাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাদের কাছে হালাল-হারাম বড়ো কথা নয়। কীভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা যায় এবং দুনিয়ায় প্রাধান্য বিস্তার করা যায় সে চেষ্টায় সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখে এবং মানুষের প্রতি জুলুম-নির্যাতনে পিছপা হয় না। তারাও কিছু ভালো কাজ করে এবং সেটার পেছনে থাকে নাম-যশ ও খ্যাতি। মারা গেলে বড়ো জৌলুস করে খানাপিনার আয়োজন করে। মানুষ মারা গেলে তাদের প্রিয়জন মৃতের জন্য ইসালে সওয়াব করতে পারে (মৃতের জন্য সওয়াব পৌঁছানো)। আজকের জুমা আলোচনায় খতিব মহোদয় সুন্নাত সমর্থিত ইসালে সওয়াব নিয়ে আলোচনা করেন। আজকের আলোচনায় তিনি কুরআন ও হাদিস থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি পেশ করেন। প্রথমত : দোয়া করা ইসালে সওয়াবের জন্য প্রথম করণীয় হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। জীবিতদের কাছ...

কুরআনের পাঠ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম  ধানমন্ডি মসজিদ উত তাকওয়ায় আজ ফজর নামাজে তেলাওয়াত করা হয়েছে সুরা মুলক। নামাজ শেষে তেলাওয়াতকৃত সুরা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন মসজিদের সম্মানিত সহকারী ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রশীদ। মসজিদ উত তাকওয়া একটি জীবন্ত মসজিদ এবং এখানকার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও সংশ্লিষ্ট সকলেই দায়ী ইলাল্লাহ। এখানকার মুসল্লিরা কুরআনপ্রেমী ও হাদিসের প্রতি মুহাব্বত পোষণকারী। জুমার দিন সাড়ে বারোটায় দ্বিতীয় তলা পূর্ণ হয়ে যায়। পাঁচ ওয়াক্তে গড় মুসল্লি সংখ্যা বেশ সন্তোষজনক। ফজরে কুরআনের সংক্ষিপ্ত দরস ও মাগরিবের পূর্বে হাদিসের জীবনঘনিষ্ঠ আলোচনায় মুসল্লিদের আগ্রহ উৎসাহব্যঞ্জক। সুরা মুলুকের দুটি আয়াতের সরল অর্থ - 'মহা বরকতময় সেই সত্তা, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে। আর সবকিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মউত এবং হায়াত তোমাদের এই পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মাঝে আমলের দিক দিয়ে কে উত্তম? তিনি মহাশক্তিমান, অতীব ক্ষমাশীল'- সুরা আল মুলক ১-২। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ তায়ালা  সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, চরম ক্ষমতা বলতে যা বোঝায় সবই তাঁর। জীবন ও মৃত্যু অর্থহী...

আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন

আল্লাহর বাণী, 'হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'- সুরা বাকারা ১৫৩ '(হে নবি!) আমার কোনো বান্দা যখন আমার সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলো আমি তাদের অতি নিকটে; যে ডাকে আমি তার ডাক শুনি ও জবাব দেই, কাজেই তাদের একান্ত উচিত আমার আহবানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি  ঈমান আনা, আশা করা যায় তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে।' সুরা বাকারা ১৮৬ মানুষের হেদায়াত ও হতাশামুক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এই দুটি আয়াতই যথেষ্ট। আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কল্যাণকামী এবং তাঁর চেয়ে বড়ো প্রতিশ্রুতি পালনকারী আর কেউ নেই। আল্লাহপাক তাঁর কাছে চাইতে বলেছেন এবং সেটি নামাজের মাধ্যমে অর্থাৎ নামাজে তাকবিরে তাহরিমা থেকে সালাম ফেরানোর পূর্ব পর্যন্ত। আমরা আল্লাহর কাছে চাইবো শেষ বৈঠকে দোয়া মাছুরা পাঠের পর, দুই সেজদার মাঝখানে এবং সেজদায় গিয়ে। বান্দা যখন সেজদায় যায় তখন আল্লাহর খুব নিকটবর্তী হয়ে যায়। সুন্নাত ও নফল নামাজ যখন একাকী পড়া হয় তখন মনের সকল চাওয়া আল্লাহর কাছে পেশ করা যায়। শর্ত হচ্ছে...

দরসুল কুরআন (সুরা তওবা ৩৮-৪২)

হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের কী হলো, তোমাদের যখন আল্লাহর পথে বের হতে বলা হয়, তোমরা জমিনকে আঁকড়ে ধরে থাকো? তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবন পছন্দ করে নিয়েছ? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী একেবারেই তুচ্ছ। ৩৮  তোমরা যদি বের না হও, আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। আর তোমাদের বদলে অপর কোনো লোকদের নিয়ে আসবেন এবং তোমরা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহ শক্তিমান। ৩৯  তোমরা যদি তাকে (নবিকে) সাহায্য না করো, তবে জেনে রাখো, ইতোপূর্বেও আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল এবং সে ছিল দুইজনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জনেই গুহার মধ্যে ছিল এবং সে তার সাথিকে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’ ফলে আল্লাহ তার ওপর নিজের পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল করেন এবং এমন সেনাদল পাঠিয়ে সাহায্য করেন যা তোমরা দেখনি। তিনি কাফেরদের বক্তব্যকে নিচু করে দেন। আর আল্লাহর কথা তো সমুন্নত আছেই। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবন। ৪০  তোমরা বেরিয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করো নিজের ধনপ্রাণ দি...

আমরা আমাদের দেশটাকে বাসযোগ্য করি

হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধপরায়ণতা দেশের ভেতরে মারামারি হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা বাড়ায়, পক্ষান্তরে উদারতা-ক্ষমাশীলতা শান্তি-স্বস্তি ও নিরাপত্তা দান করে। আমাদের ধর্মে সংকীর্ণতা নেই, আছে উদারতা। যদিও প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেটা হতে হবে সমপরিমাণ। তবে ক্ষমা করা হলে তাকে পুরস্কৃত করার দায়িত্ব আল্লাহপাক গ্রহণ করেন। বিনিময়ে কত দিবেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। একজন বিশ্বাসী বান্দা তার হন্তাকেও ক্ষমা করতে পারে। এই ক্ষমা তার দুর্বলতা নয়। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করাকে সাহসী কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা ক্ষমা করে বিশ্ব নন্দিত হন এবং নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন। আর আমরা সর্বদা অপরের দোষচর্চায় লিপ্ত ও প্রতিশোধ গ্রহণে উন্মুখ।  মানবসমাজে নেতৃত্ব দানের জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের মনোনীত করেছেন। আমরা শ্রেষ্ঠতম উম্মত, আমাদের সৃষ্টিই করা হয়েছে মানবজাতির  কল্যাণ সাধনের জন্য; আমাদের কাজ হলো ভালো কাজের আদেশ দান ও অন্যায় থেকে বিরত রাখা। দুর্ভাগ্য, জাতিগতভাবে আমরা সেই অবস্থানে নেই। আমরা কাফের-মুশরিকদের আদেশানুগত, তাদের আজ্ঞাবাহী। এক জিল্লতির জীবন আমরা যাপন করছি এবং আখেরাতে যে ভালো কিছু হবে না তা আ...

মুসলমানদের পারস্পরিক হক

 জুমার খুতবা ১৯.০৫.২০২৩ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম মাল্টিপ্ল্যান রেডক্রিসেন্ট সিটি (কুশিয়ারা, পদ্মা ও সুরমা ভবন), মিরপুর জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ সাইয়াফ শুরুতে আল্লাহপাকের হামদ ও রসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহপাক দয়া করে সর্বোত্তম স্থান আল্লাহর ঘর মসজিদে আসার তৌফিক আমাদের দান করেছেন। আলহামদু লিল্লাহ। তিনি সুরা আলে ইমরানের ১৮৫ নং আয়াত উদ্ধৃত করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে।’ তৎসঙ্গে আবু হুরাইরা রা. বর্ণিত মুসলমানদের পারস্পরিক হক সম্পর্কীয় একটি হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন মুসলমানের আর একজন মুসলমানের কাছে পাঁচটি হক রয়েছে।  হকগুলো হলো- ১. সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া। সালাম দেওয়া সুন্নাত এবং জবাব দেওয়া ওয়াজিব। ২. কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া। দেখতে যাওয়া, খোঁজ-খবর নেওয়া সুন্নাত। অমুসলিম হলেও। ৩. কেউ মারা গেলে জানাযার নামাজে শরিক হওয়া। জানাযায় শরিক হওয়া ফরজে কেফায়া। ৪. কেউ দাওয়াত দিলে তাতে অংশগ্রহণ করা। মুসলমানের দাওয়াতে শরিক হওয়া তার ভাইয়ের একটি হক। ৫. কেউ হাঁচি দিলে তার উত্তর দেওয়া। হাঁচি...

পারিবারিক বৈঠকে কিছু কথাবার্তা

আমরা চেষ্টা করি সপ্তাহে একদিন পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে একটু বসতে। সবসময় হয়ে ওঠে না। সেখানে কুরআন থেকে আলোচনা, হাদিস পাঠ ইত্যাদি হয়ে থাকে। আজকে ছিলাম তিন জন। আমি সুরা মুদ্দাসিসর প্রথম সাতটি আয়াত আলোচনা করি এবং ছেলে চারটি হাদিস ও তার মা একটি হাদিস আলোচনা করে। আমি এর মধ্য থেকে ফেসবুক বন্ধুদের জন্য সংক্ষেপে পবিত্রতা নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।  পঠিত আয়াতের সরল অর্থ- হে কম্বল আবৃত, ওঠো এবং মানুষকে সাবধান করো, তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো, তোমার পোশাক আশাক পবিত্র করো এবং মলিনতা ও অপবিত্রতা পরিহার করো, কখনো বেশি পাওয়ার লোভে কাউকে কিছু দান করো না, তোমার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করো। আমরা জানি সুরা আলাকের পাঁচটি আয়াতের মধ্য দিয়ে রসুলুল্লাহ সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ শুরু। তারপর বেশ বিরতি দিয়ে সুরা মুদ্দাসিসর প্রথম সাতটি আয়াত নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে রসুলুল্লাহ সা.-এর দায়িত্ব বলে দেওয়া হয়েছে। মানুষ বড়ো গাফেল অবস্থায় আছে এবং তাদের  সতর্ক করতে হবে। আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে বলতে হবে আল্লাহর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি সবার উপরে এবং সেভাবেই তাঁকে জানতে হবে ও মানতে হ...