Skip to main content

Posts

ইসলামে সদাচরণ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম ঠাকুর দৌলতপুর গ্রামে একটি সুন্দর জামে মসজিদ গড়ে তোলায় এর জমিদাতা, উদ্যোক্তা ও সহায়তাকারীদের বক্তৃতার শুরুতে প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং এই মসজিদকে ছদকায়ে জারিয়া ও হেদায়াতের কেন্দ্র হিসেবে কবুল করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ঈদোত্তর প্রথম জুমায় তিনি মুসলমানদের ঈদ উদযাপন এবং রমযানের শিক্ষার আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। মুসলমানদের জীবনে দু'টি আনন্দোৎসব- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এর বাইরে কোন ঈদ নেই। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর মাঝে ঈদ (আনন্দোৎসব) আছে এবং সেটা তাদের ধর্মগুরুদের সংশ্লিষ্ট করে। যেমন খ্রীষ্টানদের বড় দিন যীশুখ্রীষ্ট বা হযরত ইসা (আ)-এর জন্মদিন, বুদ্ধপূর্ণিমা (গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন), জন্মাষ্টমী (শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন)। কিন্তু আমাদের দু ’ টি ঈদ সম্পূর্ণ বিপরিত। এর সাথে আমাদের প্রিয়তম নবী (সা)-এর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই; না তাঁর জন্মদিন, না হিজরত আর না মক্কা বিজয়। ঈদুল ফিতর হলো রোযা ভাঙ্গার আনন্দ, গুনাহমাফের আনন্দ এবং ঈদুল আযহা হলো মুসলিম জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের চরম আত্মত্যাগ স্মরণ। আমাদের ঈদের প্রধান...

জুমা বক্তৃতা ১০.০৫.২০১৯

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে মাহে রমযানের প্রথম জুমায় সম্মানিত খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম আল্লাহপাকের হামদ ও রসুল (সা)-এর ওপর দরুদ পাঠের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত মেহমান রমযানের ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।তিনি একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। গ্রাম এলাকায় আগের দিন মানুষ সারাদিন মাঠে-ঘাটে কর্মব্যস্ত থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরে পুকুরে সুগন্ধি সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে ফুরফুরে মেজাজে বাজারে যায়। তখন তার শরীরে আর কোন কালিমা থাকে না এবং তার মনটাও হয়ে পড়ে প্রফুল্ল। মাহে রমজান এমনই। এগারোটা মাস সংসারের নানা ঝামেলায় ব্যস্ত থেকে নানাবিধও পাপকর্মে মানুষ জড়িয়ে পড়ে।আল্লাহর মেহমান এ রমযান মাস পেয়ে সে মেহমানের যথাযথ সম্মানের মধ্য দিয়ে গুনাহমুক্ত হয়ে প্রফুল্ল হয়ে পড়ে। রসুল (সা) বলেছেন- ‘ যে ঈমান ও এহতেছাবের সাথে রোযা পালন করবে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন ’ । এ যেন সেই সুগন্ধি সাবান যা সব দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনা দূর করে মানুষকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। তিনি রসুল (সা)-এর দীর্ঘ হাদিস উল্লেখ করেন। রসুল (সা) একদিন মিম্বরে আরোহন করেন ও আমিন আমিন বলেন। সাহাবায়ে ক...

শবেবরাত

আগামী ২১ এপ্রিল পবিত্র শবেবরাত। ‘ শব ’ ফারসি শব্দ যার অর্থ রাত এবং ‘ বরাত ’ শব্দটি আরবি বারআত থেকে গৃহিত যার অর্থ বিমুক্তকরণ, সম্পর্ক ছিহ্ন করা, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ইত্যাদি। আমাদের সমাজে ‘ শবেবরাত ’ ভাগ্যরজনী হিসেবে পরিচিত। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বই-এ কবি গোলাম মোস্তফার লেখা ‘ শবেবরাত ’ নামে একটি কবিতা আমাদের পাঠ্য ছিল এবং সেখানে উল্লেখ ছিল ‘ জান সালামত বন্টন করা পুণ্যরাত ’ । ভাগ্যরজনী হিসেবে এ রাতে বান্দার এক বছরের রিজিকসহ যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়। মোটামুটি বলা যায় বান্দার জন্য আল্লাহর এটা একটি বাজেট। তাই কথায় কথায় অজ্ঞ লোকেরা বলে থাকে শবেবরাতে তার ভাগ্যে ভালো কিছু লেখা হয়নি। আমাদের এ অঞ্চলে শবেবরাত সাড়ম্বরে পালিত হয় এবং দিনটি থাকে সরকারি ছুটির দিন। রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, পত্র-পত্রিকায় বিশেষ ফিচার লেখা হয় এবং মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। গ্রামীণ জীবনে শবেবরাতের প্রভাব আরো বেশি ছিল। ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি বিতরণ ও ভালো খানার ব্যবস্থা এবং বাড়ি বাড়ি মিলাদ অনুষ্ঠান ছিল সাধারণ বিষয়। এ ছাড়া ঘর-দোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও কাপড়-চোপড় ধোয়াতো ছি...

সূরা ফাতিহার গুরুত্ব

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের সম্মানিত খতিব হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম বড় হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করেন। মুসল্লীরা তাঁর খুতবা শোনার জন্য সাড়ে বারোটার পূর্বেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে যান। আমি সাড়ে বারোটায় যেয়ে দোতলায় জায়গা পেলাম। তিনি সালাতের উপর ধারাবাহিক আলোচনা করছেন। আজকে সূরা ফাতিহা পাঠ থেকে আলোচনা করলেন। মসজিদে উপস্থিত হয়ে তাকবিরে তাহরিমার মধ্য দিয়ে নামায শুরু হয়ে যায়। এরপর ছানা পড়ার মাধ্যমে মুসল্লী আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাহ হওয়ার ঘোষণা দেয়। জায়নামাযের দোয়া বলে কিছু নেই। রসূল (সা) এটাও নামাযের মধ্যে পড়েছেন। কয়েক প্রকারের দোয়া রয়েছে এবং যে কোন একটি পড়া যায়। নামায প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন - 'নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে'। হ্যাঁ। মানুষ যদি বুঝে-শুনে নামায আদায় করে তাহলে কোন অশ্লীলতা বা মন্দ কাজ তাকে স্পর্শ করতে পারে না। যদি করে তবে বুঝতে হবে, নামাযের কোন ত্রুটি নয়, ত্রুটি সেই ব্যক্তির যে যথানিয়মে নামায আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। ছানা পড়ার পর আউজু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হয়। শয়তান মানুষকে আল্লাহর নাফরমানি করার জন্য প্রতিনি...

স্বাধীনতার মর্ম

স্বাধীনতার প্রতি আকর্ষণ প্রকৃতিজাত। শুধু মানুষ নয়। বন্য পশু-পাখিও বন্দী বা খাঁচায় নিরাপদ জীবনের চেয়ে অনিরাপদ মুক্ত জীবন পছন্দ করে। তাই সুযোগ পেলেই সে খাঁচা থেকে পালিয়ে যায়। স্বাধীনতা অত্যন্ত ব্যাপক। বিদেশী শাসন-শোষণই নয় স্বাধীন দেশেও মানুষ যখন তার অধিকার ভোগ করতে না পারে তখন বলে স্বাধীনতার সুফল থেকে আমরা বঞ্চিত। সব ধরনের শোষণ-বঞ্চনা ও নিপীড়নমুক্ত জীবন-যাপন এবং সকল মৌলিক অধিকার ভোগ (খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের পাশাপাশি চলাফেরা ও মতপ্রকাশ) করার সুযোগকেই বলা হয় স্বাধীনতার সুফলপ্রাপ্তি। আমরা সুদীর্ঘকাল বৃটিশদের অধীন ছিলাম; তারপর পাকিস্তানী শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তিলাভের লক্ষ্যে এক রক্তক্ষয়ী লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করি স্বাধীনতা। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার লক্ষ্য ব্যক্ত করতে যেয়ে দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ’ । মুক্তি বলতে দেশবাসী বুঝেছিল মানুষে-মানুষে এবং অঞ্চলে-অঞ্চলেসহ সব ধরনের শোষণ-বঞ্চনা ও নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে মুক্ত এক আত্মসম্মানবোধ জাতি হিসেবে তারা বসবাস করবে। পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধি...

দারসুল কুরআন সূরা ইনফিতার

সরল অনুবাদ ‘‘ যখন আকাশ ফেটে যাবে, যখন তারকাসমূহ চারদিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে, যখন সমুদ্রসমূহ ফাটিয়ে ফেলা হবে, এবং যখন কবরগুলো খুলে ফেলা হবে, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি তার সামনের ও পেছনের সবকিছু জেনে যাবে। হে মানুষ! কোন্ জিনিস তোমাকে তোমার মহান রবের ব্যাপারে ধোঁকায় নিমজ্জিত করেছে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাকে সুঠাম ও সুসামঞ্জস্য করে গড়েছেন এবং যে আকৃতিতে চেয়েছেন তোমাকে গঠন করেছেন? না, কখনো নয়, বরং (আসল কথা হচ্ছে এই যে) তোমরা শাস্তি ও পুরস্কারকে মিথ্যা মনে করছো। অথচ তোমাদের ওপর পরিদর্শক নিযুক্ত রয়েছে, এমন সম্মানিত লেখকবৃন্দ, যারা তোমাদের প্রত্যেকটি কাজ জানে। নিশ্চয়ই নেক লোকেরা পরমানন্দে থাকবে আর পাপীরা অবশ্যি জাহান্নামে যাবে। কর্মফলের দিন তারা তার মধ্যে প্রবেশ করবে এবং সেখান থেকে কোনক্রমেই সরে পড়তে পারবে না। আর তোমরা কি জানো, ঐ কর্মফল দিনটি কী? হ্যাঁ, তোমরা কি জানো, ঐ কর্মফল দিনটি কী? এটি সেই দিন যখন কারোর জন্য কোন কিছু করার সাধ্য কারোর থাকবে না। ফয়সালা সেদিন একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারে থাকবে। ’’ (সূরা আল ইনফিতার ১৯) নামকরণ : প্রথম বাক্যের ইনফিতার শব্দটিকে নাম হিস...

একই সাথে মুমিন ও মুনাফিক হওয়া যায় না

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে ফজরে ধারাবাহিক তেলাওয়াতের অংশ হিসেবে আজ তেলাওয়াত করা হয়েছে সূরা আল আহযাব-এর ১ম ও ২য় রুকুর অংশবিশেষ। নামায শেষে ৪র্থ আয়াতের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন  ধানমন্ডি তাকওয়া  মসজিদের সম্মানিত সহকারী ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রশীদ। সরল অর্থ- ‘‘ আল্লাহ কোন ব্যক্তির দেহাভ্যন্তরে দু ’ টি হৃদয় রাখেননি। তোমাদের যেসব স্ত্রীকে তোমরা ‘ যিহার ’ করো তাদেরকে আল্লাহ তোমাদের জননীও করেননি এবং তোমাদের পালক পুত্রদেরকেও তোমাদের প্রকৃত পুত্র করেননি। এসব তো হচ্ছে এমন ধরনের কথা যা তোমরা স্বমুখে উচ্চারণ করো। কিন্তু আল্লাহ এমন কথা বলেন যা প্রকৃত সত্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। ’’  (সূরা আহযাব ৪) একজন ব্যক্তি একই সাথে মু ’ মিন আবার মুনাফিক; সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী এবং সৎ ও অসৎ হতে পারে না। তার বক্ষদেশে দু ’ টি হৃদয় থাকতে পারে না। একদিকে আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আবার আল্লাহর প্রতি বেপরোয়া ভাব কখনই হতে পারে না। কারো পক্ষে একই সাথে দু ’ টি মর্যাদার অধিকারী হওয়াও সম্ভব নয়। সে মু ’ মিন হবে অথবা মুনাফিক। সে কাফির হবে অথবা মুসলমান। তাই কোন মু ’ মিনকে মুনাফি...