Skip to main content

Posts

রমজান - ক্ষমা, সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার মাস

আল্লাহ তায়ালা দয়া করে আমাদের রমজান পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন। আলহামদু লিল্লাহ। আমরা ভুলে যাই সকল হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া- ঝাটি, মনোমালিন্য ও দুঃখ-ব্যাথা। কেউ ঝগড়া করতে আসলে বলি- ভাই, আমি রোজাদার। আমরা ক্ষমার বিনিময়ে পাবো মহান আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত।

সমাজে ফিতনা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা কোনো মুসলমানের কাজ নয়

 আল্লাহপাক ও তাঁর রসুল সা. মুসলমানদের যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তাতে বোঝা যায় মানবজাতি নয়, সৃষ্টির কোনো অকল্যাণ হয় বা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এমন কোনো কাজ মুসলমানদের দ্বারা সম্ভব নয়। সমাজের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল কর্মকাণ্ড ইসলামে হারাম। মিথ্যা-শঠতা-ধোকা-প্রতারণা, চুরি- ডাকাতি-ছিনতাই, সুদ-ঘুষ-দুর্নীতি, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আমানতে খেয়ানত সবই নিষিদ্ধ এবং কেহ যদি এসব অনৈতিক ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় তাহলে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। এ হলো ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি। কেহ যদি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে চায় এবং জান্নাতের প্রত্যাশী হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই জনস্বার্থবিরোধী সকল অন্যায়-অপকর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে। কুরআনের বাণী, নিশ্চিত ধ্বংস তাদের জন্য যারা মানুষকে সামনা-সামনি গালাগাল ও পেছনে দোষ প্রচার করে। রসুলুল্লাহ সা.-এর উক্তি, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়, মুমিন নয়, মুমিন নয় যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ নয়। একটু চিন্তা করুন! একটু গালি দিলে বা অসাক্ষাতে নিন্দা করলে যদি নিশ্চিত ধ্বংস হয় তাহলে কাউকে হত্যা করা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া কি কখনো একজন মুসলিমের পক্ষে সম্ভব? সমাজে শান্তি-শৃঙ...

কুরআনের পাঠ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম  যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছিল, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় জিজ্ঞেস করলো : তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা জবাব দিল, আমরা পৃথিবীতে ছিলাম দুর্বল ও অক্ষম। ফেরেশতারা বললো : আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না? তোমরা কি সেখান থেকে হিজরত করে অন্যস্থানে যেতে পারতে না? জাহান্নাম এসব লোকের আবাস স্থিরীকৃত হয়েছে এবং আবাস হিসেবে তা বড়ই খারাপ জায়গা। তবে যেসব পুরুষ, নারী ও শিশু যথার্থই অসহায় এবং তারা বের হবার কোনো পথ-উপায় খুঁজে পায় না, আল্লাহ তাদের মাফ করে দেবেন এবং আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে পৃথিবীতে আশ্রয় লাভের জন্য অনেক জায়গা এবং সময় অতিবাহিত করার জন্য বিরাট অবকাশ পাবে। আর যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে আল্লাহ ও রসুলের দিকে হিজরত করার জন্য বের হবে, তারপর পথেই তার মৃত্যু হবে, তার প্রতিদান দেয়া আল্লাহর জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়’- সুরা আন নিসা ৯৭-১০০। নামকরণ : মাদানি সুরা। বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই বিষয়ভিত্তিক কোনো শিরোনাম নির্ধারণ না করে চিহ্নস্বরূপ সুরা নিসা নামকরণ করা হয়েছে অর্থাৎ যে সুরায় নিসা ...

নামাজ মানুষকে পরিশুদ্ধ করে

 জুমা আলোচনা গাছিয়া দৌলতপুর নতুন পাড়া জামে মসজিদ তারিখ : ২৪.০২.২০২৩ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো শুকরিয়া যে, তিনি দয়া করে তাঁর ঘরে উপস্থিত হওয়ার তৌফিক আমাদের দান করেছেন। এই সমাজে অনেক লোক রয়েছে, কিন্তু সবার পক্ষে মসজিদে আসার সুযোগ হয়নি। আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে মঞ্জুর করেছেন কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। আমরা আল্লাহর বাছাইকৃত বান্দা। আমরা তাঁর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। আলহামদু লিল্লাহ। একজন মুসলমান আজান শোনার পর আর স্থির থাকতে পারে না। মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বই ঘোষণা করেন। আল্লাহর চেয়ে বড়ো আর কেহ নেই। মসজিদে হাজির হওয়াটাই তখন সবচেয়ে বড়ো কাজ। হাই আলাচ্ছলাহ, হাই আলাল ফালাহ- নামাজের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো। সেসময়ে নামাজের চেয়ে কল্যাণকর আর কোনো কাজ নেই। আখেরাতে সবার আগে হিসাব দিতে হবে নামাজের। নামাজের হিসাব দিয়ে যে পার পেয়ে যাবে সে সফলকাম। আপনারা সবাই জানেন, নামাজ বেহেশতের চাবি। যার হাতে চাবি থাকবে সে তো আশা করতেই পারে, সেই চাবি দিয়ে জান্নাতের কোনো একটা ঘর খুলতে পারবে। আপনারা নামাজে আন্তরিক হন। আশা করা যায় আল্লা...

গিবতে রয়েছে গুনাহ এবং প্রশংসায় সওয়াব

দুর্ভাগ্য, আমরা গিবতে খুবই পারঙ্গম এবং প্রশংসায় বড়ো কৃপণ। প্রশংসা করতে প্রয়োজন উদারতা ও হৃদয়ের প্রশস্ততা। সংকীর্ণমনা মানুষ কেবলই অপরের নিন্দা ও সমালোচনা করতে জানে। এটা যে তার নিজেরই ক্ষতি সে বোধ তার নেই। আজ ফজর বাদে স্ত্রীর সাথে একটু হাঁটলাম। তাকে সঙ্গ দেওয়ায় প্রভূত সওয়াব হলো। সাথে প্রাতভ্রমণও হয়ে গেল। সুস্থতার জন্য হাঁটাহাঁটি খুবই জরুরি এবং এতেও সওয়াব। যে বাসায় গেলাম সেই বাসার মা, মেয়ে, জামাই ও শাশুড়ির খুব প্রশংসা শুনলাম। আমার স্ত্রীর কথা, আপার মেয়ে তার শাশুড়ির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে আবার শাশুড়িও কম ন। বৌমার গুণপনা বর্ণনায় শাশুড়ি বড়ো অকৃপণ। আবার মেয়ের মা জামাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আল্লাহপাক আমাদের সকল ঘরকে প্রশংসার ঘরে রূপান্তর করে দিন।  আমাদের দেশে পুলিশ সম্পর্কে সুধারণা নেই। মানুষ শুধুই নিন্দা করে। ভালো-মন্দ মিলেই মানুষ। আমার ছেলের আইডি হ্যাক হলে তাকে পরামর্শ দেয়া হলো থানায় জিডি করতে। সে খুব ইতস্তত করছিল। কোনো ঝামেলা হয় কি না ভেবে ভয় পাচ্ছিল। শেষে গেল এবং ফিরে এসে তাদের সদাচরণে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলো। থানা পুলিশ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা নেই। নড়াইলে থাকাকালে সেখ...

সদাচারী ব্যক্তি জান্নাতি

কুরআন ও হাদিস পাঠ করলে উপলব্ধি করা যায় যে মানুষের সঙ্গে অসদাচারী আল্লাহর কাছে খুবই ঘৃণিত এবং জাহান্নামেই তার ঠিকানা হবে। সুরা হুমাজায় আল্লাহপাক বলেন, নিশ্চিত ধ্বংস তাদের জন্য যারা মানুষকে সামনা সামনি গালাগাল করে ও পেছনে দোষ প্রচার করে। অর্থাৎ মানুষকে হেয় করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অপমান করে, মর্যাদাহানি করে- তা প্রকাশ্যে বা গোপনে (গিবত) তার ধ্বংস অনিবার্য। একটু গালাগাল ও গিবত করার পরিণতি যদি এই হয় তাহলে মারপিট ও গুম-খুনের পরিণতি কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সুরা হুমাজায় বলা হয়েছে মানুষের সাথে অসদাচরণকারী ব্যক্তির পরিণতি হলো তাকে হুতামায় নিক্ষেপ করা হবে। হুতামার পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে আল্লাহর আগুন - এই কথা বলে আল্লাহর ক্রোধই প্রকাশ করা হয়েছে।  মানুষ তো বটেই আল্লাহর সকল সৃষ্টিই সদাচরণের দাবিদার। মানুষের মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার। আল্লাহর পরেই তাঁদের স্থান - আল্লাহর আনুগত্যের সাথে সাথে পিতামাতার সাথে সদাচরণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এরপরই রয়েছে স্বামী/স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী মোট কথা সকলের সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে। কেউ যদি জান্নাতের প্রত্যাশী ...

ধৈর্যশীলরাই সফলকাম

আমাদের এই জীবনটা বড়ই সংকীর্ণ। নাস্তিক/আস্তিক আমরা সবাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে পৃথিবীতে যারা একবার এসেছি তাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে বিশ্বাসী (মুমিন) ও অবিশ্বাসী (কাফের) উভয়ের মাঝে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। একজন মুমিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়; এরপর রয়েছে আখেরাতের অনন্ত জীবন এবং সেখানে ভালো ও মন্দ কাজের পূর্ণ প্রতিফল ভোগ করতে হবে। ফলে তার জীবনধারা হয় ন্যায় ও ইনসাফে পূর্ণ এবং মানুষ তার কাছ থেকে কেবল কল্যাণই লাভ করে থাকে। পক্ষান্তরে কাফের মনে করে এই দুনিয়ার জীবনই শেষ; এরপরে আর কিছু নেই। ফলে সে দুনিয়ার আইন-আদালত ও পুলিশকে ভয় করলেও আখেরাতের ভয় না থাকায় সে নিজেই হয়ে পড়ে নমরুদ-ফেরাউনের সার্থক উত্তরাধিকার বা কোনো শক্তিমানের আশ্রয়ে গিয়ে হয়ে পড়ে বেপরোয়া এবং জুলুম-নির্যাতনে পৃথিবীবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলে। এরা হালাল-হারামের পরোয়া করে না। সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে এবং এদের হাতে দেশ বা দেশবাসী নিরাপদ নয়। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেও তারা ধরা-ছোঁয়ার ঊর্দ্ধে। এদের সততা স্রেফ পলিসি। এমতাবস্থায় আল্লাহ মুমিন ও কাফের উভয়কে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে দিয়েছেন। ‘প্...