Skip to main content

Posts

জুমু’আ বক্তৃতা

আজ কুচিয়ামোড়া বাজার জামে মসজিদে জুমু’আর নামায আদায় ও বক্তৃতা দানের সুযোগ হয়। আল্লাহপাক দয়া করে আল্লাহর ঘরে হাজির হয়ে খুতবাহ্ শ্রবণ ও দু’রাকাত নামায আদায়ের সুযোগ দেয়ায় তাঁর দরবারে শুকরিয়া জানাই। আলহামদু লিল্লাহ। প্রতিনিয়তই আমরা মৃত্যু সংবাদ পাচ্ছি এবং আমরা তাতে পড়ি ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রজেউন’। আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। এই ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের কারো কোনো সন্দেহ নেই। কখন ও কিভাবে যাবো, আমাদের তা জানা নেই। মৃত্যুর জন্য আমাদের সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকা দরকার। আমরা যেখানে ফিরে যাবো সেই আখিরাতের পুঁজি হলো ঈমান ও নেক আমল। আমরা দুনিয়ায় নাম-যশ-খ্যাতি ও ধন-সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। অথচ এই দুনিয়াটা কত সামান্য এবং আখিরাতের জীবন বড় অসীম। বেশি বেশি নেক আমলের জন্য আমাদের প্রতিযোগিতা থাকা দরকার। মসজিদে আসার ক্ষেত্রেও আমাদের প্রতিযোগিতা দরকার। যে সবার আগে মসজিদে পৌঁছে আল্লাহপাক তার আমলনামায় উট কুরবানির ছওয়াব দিয়ে থাকেন এবং এরপর গরু, ছাগল ইত্যাদি। প্রথম কাতারে বসার ছওয়াব প্রসঙ্গে রসূল (সা) বলেন, মানুষ যদি বুঝতো প্রথম কাতারে বসায় কতো ছওয়াব তাহলে লটারি করার প্রয়োজ...

মোয়াল্লেম স্যারের সাথে কিছুক্ষণ

গতকাল (২৮.০১.২০২১) বাদ মাগরিব মোয়াল্লেম স্যারের সাথে সাক্ষাত উদ্দেশ্যে স্যারের ছাত্র ও কুচিয়ামোড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সেলিমুজ্জামান (সেলিম)-কে সাথে করে স্যারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। স্যারের শিক্ষকতা জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। সুদীর্ঘ ৫০ বছর (১৯৫৩-২০০৩) শিক্ষকতার মাঝে পাঁচ বছর ছিল প্রধান শিক্ষকের (১৯৯৮-২০০৩) দায়িত্ব পালন এবং সেখানে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। বিজ্ঞানের জটিল বিষয়সমূহ তিনি সহজেই সমাধান দিতে পারতেন। তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় শিক্ষক এবং সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় ছিলেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীর কাছে পরম আস্থাভাজন। অনেক স্মৃতিচারণ হলো বিশেষ করে নূর মোহাম্মদ স্যার ও আব্দুস সামাদ স্যারকে নিয়ে। তাঁরা ছিলেন স্যারের সমবয়সী ও মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে সবাই অবসরে যান এবং তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী দু’জন আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন। তিনি তাঁদের মাগফিরাত কামনা করেন। গত ২৩ জানুয়ারি নূর মোহাম্মদ স্যার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রজেউন)। আমি নূর মোহাম্মদ স্যারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে কিছু লেখার জন্য অনুরোধ করলে স্যার...

নূর মোহাম্মদ স্যারের পরিবারের সাথে সাক্ষাত

গতকাল স্যারের একজন স্নেহাশীষ ও ভক্ত সেলিমকে সাথে করে স্যারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। স্যারের বড় ভাই এখনো বেঁচে আছেন। বয়স নব্বই ছুঁই ছুঁই করছে। বড় ভাই ও বড় ছেলে সজলের সাথে (সহকারী শিক্ষক, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কিছু সময় কাটালাম। স্যারের অছিয়ত মোতাবেক তারা বাহুল্য কিছু না করে তিনটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে একটি মাদ্রাসায় একত্রিত করে একবেলা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিল। সাথে কিছু দরিদ্র মানুষকে যোগ করেছিল। আলহামদু লিল্লাহ। মৃত্যুর পরে ছওয়াব পৌঁছানোর সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো তার সন্তান, পরিবার ও শুভাকাক্সক্ষীদের পক্ষ থেকে বেশি বেশি করে দুআ ও নেকির কাজ করা। সেটি হতে পারে দরিদ্রদেরকে খাদ্যদান, দান-সাদাকা, সদকায়ে জারিয়া, নামায, রোযা, কুরআন পাঠ, তাছবিহ-তাহলিল বা যে-কোনো নেক আমল করে মাইয়াতের ছওয়াবের উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে পেশ করা। সর্বোপরি আল্লাহর কাছে মাইয়াতের মাগফিরাত কামনা করা। মানুষ মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার ভালো ও মন্দ সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রয়ে যায় নেক সন্তানের দুআ ও নেক আমল, ছদকায়ে জারিয়া ও এমন ইলম যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়। পিতা-মাতার জন্য দুআ করার ভাষাটিও আল্লাহপাক শিখিয়ে দিয়েছেন, ‘রব্...

মৃত্যু ও ভালো-মন্দ সবই আল্লাহর হাতে

আমরা অনেক সময় শুনে থাকি লোকটিকে আযরাঈলে ধরেছে বা বলে আযরাঈলে ধরলে কাউকে ছাড়ে না বা অনেক সময় নিজের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বলে আযরাঈল চোখে না। এর কোনোটিই ঠিক নয়। আল্লাহপাকের সীমাহীন সাম্রাজ্যে অসংখ্য কর্মচারীর মধ্যে হযরত আযরাঈল (আ) অন্যতম। ফেরেশতারা আল্লাহর কর্মচারী। তাঁদের নিজস্ব বলে কিছু নেই, কোনো স্বাধীনতা নেই। একান্ত আল্লাহর অনুগত কর্মচারী। সীমা সংখ্যাহীন ফেরেশতা আল্লাহর কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁরা অত্যন্ত সম্মানিত। আল্লাহর হুকুম পালনে সদা তৎপর। একটু ব্যতিক্রম ঘটানোর সুযোগ নেই। তন্মধ্যে চারজন ফেরেশতা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বাণীবাহক জিবরাইল (আ) সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। জান কবজের দায়িত্ব হযরত আযরাঈল (আ)-এর এবং সেটি আল্লাহর নির্দেশক্রমেই হয়ে থাকে। মৃত্যুর সময় সুনির্দিষ্ট এবং কোথায়, কখন ও কিভাবে সেটিও আল্লাহই ভালো জানেন। মানুষের জন্য এই পৃথিবী একটি পরীক্ষাগার। পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যেই আল্লাহপাক জীবন ও মৃত্যু দান করেছেন। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের বিশ্বাস, এই মৃত্যুই শেষ নয়; এরপর রয়েছে আর একটি জগত যাকে বলা হয় আখিরাতের জীবন। দুনিয়া ও আখিরাত নিয়েই আমাদের এক পরিপূর্ণ জীবন এবং আমরা আল্লাহ...

নামায মানুষকে সুশৃঙ্খল করে

আল্লাহর আনুগত্যের সর্বোত্তম নিদর্শন নামায। ঈমান আনার পরে, সে যে ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী তার প্রমাণ নামায। নামাযই একজন মুসলিম ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য তৈরী করে। হাদিসে নামাযকে বেহেশতের চাবি বলা হয়েছে। আপনার হাতে ঘর খোলার চাবি থাকলে স্বাভাবিকভাবে আশা করতেই পারেন, ‘আমি সেই ঘরের বাসিন্দা হবো ইনশা-আল্লাহ’। প্রশ্ন উঠতে পারে, নামাযের মধ্যে এমন কী আছে যা মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যায়? এর জবাব আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। ‘নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে’- আনকাবুত ৪৫। আল্লাহ তায়ালা বড় নিশ্চয়তা দিয়ে কথাটি বলেছেন। অন্যায় ও অশ্লীল কাজ মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর নামায মানুষকে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। হয়তো বলবেন, নামায পড়েও তো অনেক মানুষ অন্যায় করে। আসলে ঠিক নয়। ওরা প্রতারক, নামাযকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে ধোকা দেয়, ‘আমি নামাযী, বড় ভালো মানুষ’। আপনি অনুতপ্ত হন, আল্লাহর ভয়ে নামায শুরু করুন; দেখবেন সহসা আপনার জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে। সারাজীবন নামায পড়েননি। তাতে কী? আপনি এখনই তাওবা করুন। শুধু বলুন, পরোয়ারদেগার! ভুল হয়ে গেছে। মুখে উচ্চারণে সময় লাগতে পারে, ...

হাদিস পড়ি জীবন গড়ি-

মুনাফিকের চিহ্ন : আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (সা) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। এগুলো হচ্ছে- ১. আমানতের খেয়ানত করে ২. কথা বললে মিথ্যা বলে ৩. অঙ্গিকার করলে ভঙ্গ করে ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে। বুখারি ও মুসলিম। মুনাফিক হবে মুসলমানদের মধ্য থেকে। কাফির অপেক্ষা মুনাফিকের পরিণতি বড় ভয়াবহ। এদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে। এদের নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত সবই মূল্যহীন হয়ে পড়বে। আল্লাহপাক আমাদেরকে হেফাজত করুন। স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা : ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল (সা) এরশাদ করেন-‘আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি) , তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফুরি করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘তারা কি আল্লাহর সাথে কুফুরি করে’? তিনি বললেন, ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে’। তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাকো, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো...

মৃত্যু- ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তার প্রভাব

মৃত্যুকে এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুবরণ করছে। বৃদ্ধ বাবা-মা রয়ে যাচ্ছে অথচ যুবক সন্তান ও শিশু নাতি-নাতনি চলে যাচ্ছে। রসুলুল্লাহ (সা)-এর ছেলে সবগুলো অতি শৈশবে এবং মেয়ে ফাতিমা (রা) ছাড়া সবাই তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেছেন। এ-সবই পরীক্ষা এবং প্রিয়জনের বিদায়ে যারা ধৈর্য অবলম্বন করে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। প্রিয়জনের মৃত্যু ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে সবাই শোকাতুর হয় এবং নানাভাবে শোক প্রকাশ করে। তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীকে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হয়। এ সময়ে সাজ-সজ্জা করা এবং অলঙ্কার ও সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এমতাবস্থায় স্ত্রীর উচিত স্বামীর ঘরে অবস্থান করা। প্রিয়জনের মৃত্যুতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। তারপরও বলবো স্ত্রীই হন অধিক ক্ষতিগ্রস্ত। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী যত সহজেই আর একটি বিয়ে করতে পারে স্বামীর মৃত্যুতে সন্তানের মায়া ও সামাজিক নানা কারণে স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও ইসলামে বিধবা বিয়েকে উৎসাহ দেয়...