Skip to main content

Posts

দাওয়াতে দীন ও সঙ্ঘবদ্ধ জীবন যাপন

 হে রসুল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা কিছু নাজিল করা হয়েছে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। যদি তুমি তা না করো তাহলে তুমি তাঁর রিসালাতের হক আদায় করলে না। মানুষের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো কোনো কাফের জাতিকে পথ প্রদর্শন করেন না- সুরা মায়েদা ৬৭। অতঃপর রসুলুল্লাহ সা. নির্দেশ দিলেন, আমার পক্ষ থেকে মানুষের নিকট পৌঁছাতে থাকো, যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়। মুসলমান মাত্রই দায়ী ইলাল্লাহ। স্রেফ ঈমান ও নেক আমল মানুষকে ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে না। এর সাথে অবশ্যম্ভাবী মানুষকে হকের দাওয়াত দিতে হবে ও ধৈর্য ধারণের উৎসাহ যোগাতে হবে। কথাগুলো মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা আসরে কসম খেয়ে বলেছেন। সাথে এটিও বলে রাখি, আমাকে-আপনাকে পরিপূর্ণ ইসলামে দাখিল হতে হবে। আংশিক দীন মানা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহর বাণী, তোমরা পরিপূর্ণ ইসলামে দাখিল হও। জীবনকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করার মতো সুযোগ ইসলামে রাখা হয়নি। আপনার ঘর, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থাৎ আপনার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনসহ সকল ক্ষেত্রে ইসলামকে একনিষ্ঠভাবে মানতে হবে। যদি মানতে পারেন তাহলে আপনি মুসলিম অর্থাৎ অনুগত। সাথে সাথে ...

আকছেদ মাস্টার তাঁর রবের কাছে ফিরে গেলেন

 বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের (মফের আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জনাব আকছেদ আলী (ভাদু মাস্টার) গত রাত আটটায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রজেউন)। আগের দিন স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী নেয়া হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স সত্তর ঊর্ধ হবে। তিনি স্ত্রী, ছয় মেয়ে ও এক ছেলে এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেলেন।একসময় তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর ছিলেন। ফলে তাঁর আর একটি পরিচয় ভাদু মেম্বর। মরহুম আকছেদ আলী কাজিপাড়া গ্রামের মরহুম আকুল খামারুর ছেলে। তিনি মরহুম মফের আলী সরদারের জামাই এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মনসুর রহমান (আঁতু ডাক্তার)- এর ভগ্নিপতি। আমরা মরহুমের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সন্তানদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন এবং দোয়াকারী নেক সন্তান হিসেবে কবুল করুন। মরহুমের নামাজে জানাজা সকাল দশটায় কাজিপাড়া গোরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে ইনশা- আল্লাহ।

জানাজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

হাদিসে জানাজা ও দাফন-কাফনে বেশ উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। দুই কিরাত সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। এর সামাজিক গুরুত্ব অনেক উচ্চে। আমাদের কুষ্টিয়া অঞ্চলে সামাজিক গোরস্থানের ব্যাপক প্রচলন। এক বা একাধিক গ্রাম নিয়ে গোরস্থান গড়ে উঠে। পারিবারিক গোরস্থান নেই বললেই চলে। মরহুম আকছেদ আলী মাস্টারের জানাজা উদ্দেশ্যে আজ গিয়েছিলাম কাজিপাড়া গোরস্থানে। মাস্টার সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। কাজিপাড়া, কৈগাড়িপাড়া ও কুচিয়ামোড়া গ্রামের আংশিক নিয়ে ১৯৫০ দশকে গোরস্থানটি গড়ে উঠে। বর্তমানে জমির পরিমাণ সাড়ে দশ বিঘা। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাস্টার সা'দ আলী, সহসভাপতি মো. শফিউল ইসলাম রাজা এবং সেক্রেটারি মো. গোলাম হোসেন। মুক্তার ভাই, রাজা ভাই, গ্যাদা ভাই ও কালুকে সাথে করে খালা-খালু, বড়ো ভাই ও ভাবি এবং রুবিসহ পরিচিত অনেকের কবরের কাছে গিয়ে কবরবাসীকে সালাম ও তাদের জন্য দোয়া করা হলো। মৃত্যুর কথা শুনে আমরা যা পাঠ করি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রজেউন) তাতে আমাদের স্মরণ করে দেওয়া হয় যে কেউ এই দুনিয়ায় চিরস্থায়ী নই। আমরা অবশ্যই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবো। আর এব্যাপারে কারো মধ্যে কোনো সংশয় নেই। এখন প্রয়োজন আল্লাহর কাছে ফিরে ...

আলেমরা নবিদের ওয়ারিশ। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই

 জুমা আলোচনা কুচিয়ামোড়া মদিনাতুল উলুম জামে মসজিদ তারিখ : ২২.০৯.২০২৩ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আমাদের বাড়ির সন্নিকটে এটি একটি নতুন মসজিদ, কুচিয়ামোড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রায় ১৫ বছর হলো। আমাদের ইউনিয়নের সেরা ধনী ও দানশীল ব্যক্তি মরহুম আহছান উদ্দিন কোম্পানির ছেলে আলহাজ মো. রশিদুল ইসলাম একক প্রচেষ্টায় ১০ কাঠা জমি ক্রয় করে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন পরিচালনার পর তিনি দায়িত্ব এলাকাবাসীর কাছে অর্পণ করেছেন। বর্তমানে সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যথাক্রমে ডা. মো. শামীম ফেরদৌস, প্রকৌশলী মো. হারুনর রশিদ এবং জনাব মো. গোলাম জাকারিয়া। মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ। এই মসজিদে নামাজ আদায় আজ আমার প্রথম।  মসজিদের সম্মুখে খোলা চত্তর ও অজুখানা- পেশাবখানা সবই আছে এবং মসজিদের মেঝে ও দেয়াল পুরোটাই টাইলস। আমাদের দেশে একটা ভালো দিক হলো, আল্লাহর কোনো বান্দা মসজিদ শুরু করলে অল্পদিনেই সেটি একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদে রূপ নেয়। আলহামদু লিল্লাহ। আমি মরহুম আহছান উদ্দিন ও তাঁর পরিবারে যারা আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন তা...

মানসিক রোগ

আমরা সবাই মানসিক রোগী - একটু কমবেশি এই আর কী? এতে অনেক সময় নিজেরাই নানান সমস্যায় ভোগী এবং আমাদের জীবন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। অথচ আল্লাহ তায়ালা নিজে আমাদের দীনে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এ এক উদার ও প্রশস্ত দীন। যেমন ধরুন খানাপিনা - আমরা নিজেরা অনেক কিছু হারাম করে নিয়ে হারামের লম্বা ফিরিস্তি তৈরি করেছি- অথচ আল্লাহ তায়ালা হালালের কোনো তালিকা না দিয়ে খুবই সংক্ষিপ্ত হারামের তালিকা (শুকরের মাংস, প্রবাহিত রক্ত, মৃত জীব-জন্তু ও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ) দিয়ে বলেছেন, সকল পবিত্র জিনিসই তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। এর সাথে রসুলুল্লাহ সা. হিংস্র ও নখরধারী কিছু জীব ও পাখির কথা বলেছেন।  ছোঁয়াছুঁয়ির রোগ ইসলামে নেই। নিজের জন্য গামছা, থালা, গ্লাস, বিছানাপত্র সবকিছু আলাদা করে নেয়া এবং কেউ স্পর্শ করলে আবার তা ধোয়া এটা বাহুল্য। বরং ইসলাম বলে কোনো নিম্ন বর্ণ বা পেশার লোক যদি গ্লাসে পানি খেয়ে কিছু রেখে দেয় সেই পানি পান করাতে কোনো সমস্যা নেই। আবার সবাই মিলে একই প্লেটে খানা খেতেও দোষ নেই। কোনো খাবারে বা পানিতে যাদের গোশত হালাল এমন জীব যেমন ছাগল- গরু মুখ দেয় তবে সেই খাবার হারাম হয়ে যায় না। বিড়ালের গোশ আমা...

চলতে ফিরতে কথা

  বাড়ির পাশে বাজারে সকালে চুল কাটাতে গেলাম। বছর দুই হলো ছেলেটি দাখিল পাশ করেছে। বাড়ি পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের জুনিয়াদহ গ্রামে। বাব-মা ও দুই ভাই। ছোট ভাইটি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। জিজ্ঞেস করলাম, রেজাল্ট কেমন ছিল। বললো, পড়াকালীন আমি কাজ শিখেছি। ফলে রেজাল্ট খুব ভালো হয়নি। গ্রেড ৩.৬৯ পেয়েছি। বললাম, তোমার রেজাল্ট তো বেশ ভালো, ফার্স্ট ডিভিশন। লেখাপড়া করতে পারতে? চাকরি- বাকরির জন্য না হলেও বিয়েসাদী করার সময় দরকার হয়। মেয়ের বাবা-মা জানতে চায় ছেলে লেখাপড়া কতদূর করেছে? সে জবাবে বললো, বাবা-মা পছন্দ করে আমাকে বিয়ে দিয়েছে। তাদের খুব পছন্দ। রান্না-বান্না, কাজেকর্মে ও বাবা-মা’র সেবা-যত্নে বাবা-মা খুব সন্তুষ্ট। আমি বললাম, খুব ভালো করেছ। এখন তুমি তোমার পেশায় মনোযোগী হও। আয়-রোজগারের খোঁজ নিয়ে জানলাম দৈনিক ৬/৭শ টাকা করে আয় হয়। খরচ বাদে মাসে ১৮,০০০ টাকা আয় করে। এখানে তার দোকান এক বছর এখনো পূর্ণ হয়নি। ভবিষ্যতে ভালো করবে ইনশা-আল্লাহ।  ছেলেটার নাম জিহাদ। বললাম, বাবা-মা সুন্দর নাম রেখেছেন এবং আলেম বানানোর জন্য তোমাকে মাদ্রাসায় দিয়েছেন। তুমি তাঁদের আশা পূর্ণ করবে। কর্মব্যস্ততার কারণে নামাজ যদি কখনো ছুটে যায় ত...

শীতের আমেজ

আজ ১১ই আশ্বিন। আগে শুনতাম আশ্বিনে গা শিন শিন করে। হ্যাঁ, রাতে ফ্যান ছাড়া ঘুমালাম এবং ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতেও বেশ মজা লাগলো। গেঞ্জি-জামা অন্য দিনের তুলনায় কমই ভিজলো। এমন আবহাওয়াটা ভারি চমৎকার। সকালে হেঁটে এসে অবশ্য ফ্যান ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য আবহাওয়া ও পরিবেশটা মনোমুগ্ধকর করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আলহামদু লিল্লাহ। আমরা তাঁর প্রতিনিধি হয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আমাদের জীবন যাপনের উপযোগী করি। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত জিদ, মিথ্যা, অহংকার ও জুলুম থেকে নিজেকে মুক্ত করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলুমের শাস্তির জন্য আল্লাহপাক কেয়ামত পর্যন্ত সবসময় অপেক্ষা করেন না, দুনিয়াতেও দিয়ে থাকেন। হে আল্লাহ! সর্বপ্রকার জুলুম থেকে তুমি আমাদের হেফাজত করো।