Skip to main content

Posts

হায়! মানুষ যদি জুলুমের পরিণতি বুঝতো!

চতুর্দিক শুধুই জুলুম। কে বলবে আখেরাতেবিশ্বাসী এ একটি জাতি? জুলুম অর্থ কারো অধিকার হরণ। যেমন শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম। কারণ আল্লাহর অধিকার হলো যে, তাঁর বান্দারা একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্য করবে এবং এই আনুগত্যে কাউকে তাঁর সাথে শরীক করবে না। মানুষ আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি এবং সকল মানুষ আদমের সন্তান ও পরস্পরের সমান। সবাই সবার প্রতি সদাচরণ করবে এবং কেউ কারো কোন ক্ষতি করবে না বা ক্ষতি করার চিন্তাও করবে না-এটা মানুষের অধিকার। কোন মানুষ যদি জেনে-বুঝে কারো ক্ষতি করে, তবে সে যার ক্ষতি করলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা না করলে আল্লাহও তাকে ক্ষমা করবেন না। মানুষের কথা, কাজ, লেনদেন বা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী-বাকুরী ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাউকে কথায় কষ্ট দেয়া বা সম্মানহানি বা আর্থিক ক্ষতি সবই জুলুম এবং এর পরিণতি জাহান্নাম। আল্লাহর বাণী- ‘ নিশ্চিত ধ্বংস তাদের জন্য যারা মানুষকে সামনা-সামনি গালাগাল ও পেছনে দোষ প্রচার করে ’ । একটু পরেই বলা হয়েছে তাদেরকে হুতামায় নিক্ষেপ করা হবে। আর সেই হুতামার পরিচয় হলো- ‘ আল্লাহর আগুন, প্রচন্ডভাবে উত্তপ্ত-উৎক্ষিপ্ত, অন্তর পর্যন্ত স্পর্শ করে ’ । আমার জানামতে জাহান্নামের ভয়াবহতা ও আল্...

রমযানে শিক্ষা-৬

রোযা মানুষকে সংযমী করে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক যে চাহিদা ইসলাম তা কখনই অস্বীকার করে না। ক্ষুধা লাগলে খাবে, ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেবে বা বয়স হলে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ করবে, এ সবই স্বাভাবিক। ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম। মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি যা দাবী করে ইসলাম মূলত তাই। সন্যাসজীবন ইসলাম স্বীকার করে না।পরিশুদ্ধি বা নফসের দমনের জন্য নিজের ওপর অহেতুক কষ্ট-কঠোরতা আরোপ ইসলামের পছন্দ নয়। মানুষের জীবনের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে ইসলাম হালাম-হারামের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখানেও কোন বাড়াবাড়ি নেই। হারাম কয়েকটি সুনির্দিষ্ট, গোটা দুনিয়া তার জন্য হালাল। প্রবৃত্তিকে দমন বা ধ্বংস নয়, বরং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে সুপথে পরিচালনা করাই ইসলামের উদ্দেশ্য। রোযা মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মানুবর্তি করে। সেহরী ও ইফতারী খাওয়া এবং রাতে নামায আদায়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে একটা নির্দিষ্ট ছকে আনতে চায়। মানুষ পানাহার করতে চায় এবং এই পানাহারের ক্ষেত্রে বলা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার বন্ধ। যে সব জিনিস তার জন্য হালাল ছিল তা সাময়িকভাবে তার জন্য হারাম হয়ে গেল। ...

রমযানের মৌলিক শিক্ষা

তাকওয়া অবলম্বন, কুরআন অনুসরণ ও মানুষের কাছে কুরআনের আহবান পৌঁছে দেয়া                                                                           বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম রমযান ও সিয়াম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আল্লাহপাক রমযান মাসকে বেছে নিয়েছেন তাঁর বান্দাদের সিয়াম পালনের জন্য। তাঁর বাণী- ‘ রমযান মাস, এ মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হেদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন উপদেশাবলীতে পূর্ণ যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। কাজেই এখন থেকে যারাই এ মাসের সম্মুখিন হবে তাদের একান্ত কর্তব্য পূর্ণ মাস রোযা রাখা ’ -সূরা বাকারা ১৮৫। রমযান মাস এত ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পেছনে ক...

রমযানে শিক্ষা-৪

সহজতা বিধান আল্লাহর অভিপ্রায় রমযানের সিয়াম বান্দাকে গুনাহমুক্ত ও মুত্তাকী করার এক দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স। না খেয়ে রেখে শাস্তিদান কি আল্লাহর অভিপ্রায়? মোটেই নয়। উদ্দেশ্য আল্লাহর বিধান পালনে তাঁর বান্দাদের অভ্যস্ত করে তোলা। সত্যি এ ব্যাপারে রোযা অনন্য। দীর্ঘ একটি মাস সেহরী খাওয়ার পর থেকে ইফতার পর্যন্ত আল্লাহর হালাল খাদ্যখানা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা শুধু এই উদ্দেশ্যে যে, আল্লাহপাক এ সময়ে তা নিষিদ্ধ করেছেন। যে ব্যক্তি এভাবে টানা একটি মাস আল্লাহর হুকুমে হালাল জিনিস গ্রহণ থেকে বিরত থাকে তার পক্ষে কি কখনই সম্ভব আল্লাহর স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ জিনিসের ধারেকাছে ঘেষা। এজন্য তো হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ যারা ঈমান ও এহতেছাবের সাথে রোযা রাখবে আল্লাহ তাদের অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন ’ । শাস্তিদান আল্লাহর উদ্দেশ্য হলে তো বলা হত ইফতার বিলম্বে করো এবং সেহরী ছাড়াই রোযায় কল্যাণ বেশি। হাদিসের ভাষা হলো-কল্যাণ রয়েছে তাড়াতাড়ি ইফতার করা ও বিলম্বে সেহরী খাওয়ার মধ্যে। এমন কি এও বলা হয়েছে যে, সেহরী খেতে খেতে (ইচ্ছাকৃত নয়) যদি সময় শেষ হয়ে যায় তাহলে সে যেন তার প্রয়োজন পূরণ করে নেয়। এ ছাড়া রমযান মাসে কেউ অসু...