Skip to main content

Posts

আত্মনির্ভরশীলতা মানুষকে সুখী করে

  Nurse the baby, protect the child and free the adult. সদ্যজাতকে সেবা দাও, শিশুকে সংরক্ষণ করো এবং বয়স্ককে মুক্ত করে দাও। অর্থনীতিতে পাঠদানের সময় শিশু শিল্প সংরক্ষণের পক্ষে যুক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে বলতাম। সংরক্ষণ হিসেবে কর মওকুফ, ভর্তুকি প্রদান, আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠিত শিল্প কারখানার সাথে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বা শিশু শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টেকা একটু কঠিনই। এই সুবিধা প্রাপ্তির ফলে অনেক সময় দেখা যায়, তাদের শৈশব আর কাটে না বা যৌবন প্রাপ্তিও হয় না। তাই অর্থনীতিবিদরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুবিধা দেয়ার পক্ষে। ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ হওয়া উচিত এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিও তাই। জন্মগ্রহণের পর মানবশিশু সবচেয়ে অসহায় হয়ে থাকে। আল্লাহপাক দুটি বছর তার মা'র দুধপান হক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর পরবর্তী শিশুকাল তার জন্য বিপদজনক এবং এই সময়টা তাকে গড়ে তোলার সময়। নৈতিকতা শিক্ষাদান এবং স্বাবলম্বি করার লক্ষ্যে লেখাপড়ার সাথে নানাবিধ কাজে তাকে অভ্যস্ত করাতে হয়। ৭/৮ বছর বয়সে বিছানা আলাদা করে দেয়া ও নামাজে অভ্যস্ত করার জন্য হাদিসে তাগিদ ...

সংকীর্ণতা সাফল্যের অন্তরায়

  আল্লাহ তায়ালা চান তাঁর বান্দারা তাঁরই মতো হবে উদার ও প্রশস্ততার অধিকারী। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। মানুষ অন্যায় করবে আর ধরে ধরে জাহান্নাম পূর্ণ করবেন, এটি আল্লাহর অভিপ্রায় নয়। বান্দা ভালো কাজের নিয়ত করলেই সওয়াব এবং কর্ম সম্পাদন করলে তার সওয়াব দশ থেকে সাতশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। পক্ষান্তরে মন্দ কাজে নিয়ত করলে কোনো গুনাহ নেই। মন্দ কাজ করলে সমপরিমাণ গুনাহ লেখা হয় এবং গুনাহ করে তওবা করলে সেই গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। ছোট গুনাসমূহ ভালো কাজের বিনিময়ে এমনিতেই ক্ষমা করে দেয়া হয়। এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর উদারতা ও ক্ষমাশীলতারই বহিপ্রকাশ। আল্লাহপাক তাঁর বান্দার মধ্যে উদারতা ও ক্ষমাশীলতার গুণ দেখতে চান। মানুষ তো তাঁরই প্রতিনিধি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কার্পণ্য ও সংকীর্ণতার ঊর্দ্ধে দেখতে চান এবং কল্যাণ ও সাফল্য রয়েছে উদারতার মধ্যে। তাঁর বাণী- ‘যে ব্যক্তি স্বীয় মনের সংকীর্ণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করলো সে-ই কল্যাণ লাভ করলো’- সূরা তাগাবুন ১৬। ‘যেসব লোককে তাদের মনের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম’- সূরা হাশর ০৯। শুহ্-হা...

আপনি কি হতাশ?

★ কেন? গুনাহের ভারে। আপনার জানা উচিত তওবা করলে বান্দা আর পূর্বের গুনাহের জন্য শাস্তিযোগ্য থাকে না। তাই অপেক্ষা না করে দ্রুত আল্লাহর কাছে তওবা করুন। তওবা অর্থ গুনাহ থেকে ফিরে আসা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। ★ ব্যবসায়ে সফল হননি, চাকরি পাচ্ছেন না, দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন, বিয়ে করতে পারছেন না, সংসারে ও চাকরিতে ঝামেলা - আপনার সকল সমস্যা আল্লাহরই কাছে পেশ করুন। আপনি ডাকলে তিনি আপনার ডাক শুনেন ও জবাব দেন। ★ আল্লাহর বাণী - হে নবি! আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জানতে চায়? বলে দাও, আমি তাদের অতি নিকটে। যে ডাকে আমি তার ডাক শুনি ও জবাব দেই। কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেয়া ও আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের একান্ত কর্তব্য- সুরা বাকারা ১৮৬। ★ বান্দার ডাক শোনার ব্যাপারে আল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনার দায়িত্ব আল্লাহর কাছে পেশ করা এবং পূরণ করার দায়িত্ব আল্লাহর। পরিপূর্ণ বিশ্বাস রেখে আপনি আল্লাহকে ডাকতে থাকুন এবং আল্লাহর কাছে পেশ করে প্রশান্তচিত্ত হয়ে পড়ুন। তাঁর উপর নির্ভরশীল হোন এবং বান্দার টেনশন মুক্ত হওয়ার এটিই সুযোগ। ★ অধৈর্য হবেন না। তিনি দেবেন। কোনো কারণে যদি বিলম্ব হয় সেটি বান্দার কল্যাণেই করা হয়। আর...

দুনিয়ার এই জীবন -

★ বড় ক্ষণিকের। আমরা সবাই মুসাফির ★ আমরা দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের কল্যাণ চাই ★★★ আসুন- ★ আল্লাহর ইবাদতে কাউকে শরীক না করি ★ নিজের পেশার প্রতি যত্নবান হই ★ নিজের পেশাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করি ★ পরিবারের প্রতি দায়িত্ববান হই ও পরস্পরকে ক্ষমা করি ★ মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ঝেড়ে ফেলি ★ যা আছে সেটি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি ও কৃতজ্ঞ হই ★ আল্লাহর বান্দাদের সম্মান দেই ও ক্ষমা করি ★ সকল অন্যায় ও পাপাচার থেকে দূরে থাকি আল্লাহপাক আমাদের কবুল করুন।

মুহাম্মদ সা. সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসিত ও সর্বোচ্চ প্রশংসাকারী

  জুমার খুতবা ০৩.১২.২০২১ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আজ মিরপুর কাঁঠালবাগ জামে মসজিদে জুমার খুতবায় সম্মানিত খতিব আলহাজ মুফতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান আশরাফী আল্লাহর হামদ ও রসুল সা.-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশের পর প্রিয়তম নবি সা.-এর জন্ম, শৈশব ও খতমে নবুওয়াত নিয়ে আলোচনা করেন। নবিকূলের সরদার ও সর্বশেষ নবি মুহাম্মদ সা. আরবের বিখ্যাত কুরাইশ বংশের বনু হাশেম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত সীরাত গ্রন্থ আর রাহীকুল মাখতুম ও ইবনে হিশামে উল্লেখ রয়েছে যে, মুহাম্মদ সা.-এর জন্ম হয়েছে ৯ রবিউল আউয়াল। আবার কেউ বলেছেন ১১ বা ১২ রবিউল আউয়াল। জন্ম তারিখ নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও জন্মবার নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। রসুলুল্লাহ সা. নিজেই বলেছেন আমি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছি এবং শুকরিয়া হিসেবে সোমবারে রোজা রাখি। রসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাত হিসেবে কেউ সোমবারে রোজা রাখলে সে সওয়াব পাবে। মুহাম্মদ সা.-এর জন্মের পূর্বে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ বাণিজ্য উপলক্ষে মদিনা গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথে ইন্তেকাল করেন। তিনি এতিম অবস্থায় দুনিয়ায় আগমন করেন। আল্লাহপাক তাঁকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তোমাকে কি এতিম অবস্থায় পাননি? আমিনার কোল...

দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

  ইসলাম একজন ব্যক্তির দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে। পরিবারের ভরণপোষণ ও সুখ-শান্তি নিশ্চিত করাকে ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে। পরিবারের জন্য ব্যয়কে সদকা শুধু নয় বরং সর্বোত্তম ব্যয় হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি পয়সা তুমি জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ, একটি পয়সা দাসমুক্ত কাজে এবং একটি পয়সা আপন পরিবারের জন্য খরচ করলে- এর মধ্যে সর্বোত্তম ব্যয় হলো আপন পরিবারের জন্য যেটি ব্যয় করলে। পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি সকলের জীবনে কামনা-বাসনা। আল্লাহপাক দোয়াও শিখিয়ে দিয়েছেন, ‘পরোয়ারদেগার! স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা আমাদের চোখকে শীতল করে দাও এবং আমাদের করে দাও মুত্তাকিদের ইমাম’- সুরা ফুরকান ৭৪। দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে প্রশান্তি দুনিয়ার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যারা এই প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত তারা হতভাগা এবং দুনিয়ার জীবন হয়ে উঠে নিরানন্দের ও বেঁচে থাকার আগ্রহও অনেক সময় হারিয়ে ফেলে। দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষাগার। পরীক্ষা ছাড়া আল্লাহপাক কাউকে পুরস্কৃত করবেন না। নানাভাবে পরীক্ষা আসবে। ভয়-বিপদ-অনশন, জানমালের ক্ষতি, রোগব্যাধি নানা প্রক্রিয়ায়। স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান-সন...

ভালোবাসা আল্লাহরই জন্য

  মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে ভালোবাসা দান করেছেন। এই ভালোবাসা মূলত তাঁর সৃষ্টিকে টিকে রাখার জন্যই। সন্তানের প্রতি বাবা-মার, বাবা-মার প্রতি সন্তানের ও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা প্রকৃতিজাত এবং যা প্রকৃতিজাত তাই ইসলাম। প্রকৃতির রাজ্যে গাছ-গাছালি, পশু-পাখি, জীব-জানোয়ার এককথায় আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টির প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ও সেটি উপভোগ করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া বান্দার অধিকার। আল্লাহপাক এই পৃথিবীকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করেছেন এবং এর সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টি করেছেন তীব্র আকর্ষণ। মানুষ আল্লাহর এই সৃষ্টিকে ভালোবাসবে এবং কৃতজ্ঞতায় তাঁর প্রতি অবনত হবে, এটিই স্বাভাবিক। দুর্ভাগ্য, অজ্ঞতা ও শয়তানের প্ররোচনায় স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে অনেক সময় মানুষ সৃষ্টির পূজারি হয় এবং এরই নাম শিরক। কুরআন মজিদ খুলে আমরা প্রথম যে শব্দটি পাই, সেটি হলো ‘আলহামদু লিল্লাহ’। এই শব্দটির মাধ্যমে ব্যক্তিপূজা ও সৃষ্টিপূজার মূলোত্পাটন করা হয়েছে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার হলেন মহান স্রষ্টা আল্লাহ রব্বুল আলামিন। আর সকল ভালোবাসা হতে হবে তাঁর অধীন। কারো প্রতি ভালোবাসা ত...