Skip to main content

Posts

কৈফিয়ত

বয়স ৬৯ ছুঁই ছুঁই করছে। এই বয়সে কী বা আর করবো? হিসাব মেলানোর সময়। পেছনে ফেলে আসা দিনগুলো কতটুকু কাজে লাগিয়েছি তা একটু দেখার সময়। শুধু আমি নয়, এই বয়সে আমার মতো সবারই ভাবনা একই। আমার বড় সান্ত্বনা যে আমি একজন মুসলিম এবং আমার রয়েছে একজন জবরদস্ত অভিভাবক যাঁর কাছে নিজের সবকিছু পেশ করে প্রশান্তি লাভ করা যায়। আমার অভিভাবক মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। বান্দাকে ক্ষমা করার মধ্যেই তাঁর যত আনন্দ। এখানেই আমার ভরসা। তাঁর অফুরন্ত নেয়ামত লাভে আমি ধন্য। আমি তাঁর প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী ও কৃতজ্ঞ। আমি তাঁর ক্ষমা প্রত্যাশী। একজন মুসলিম হিসেবে আমি জানি ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর আনুগত্যের পাশাপাশি আল্লাহর বান্দাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া আমার দায়িত্ব। মূলত আমার নবি মুহাম্মদ সা.-এর যে দায়িত্ব তাঁর অনুসারী হিসেবে আমারও একই দায়িত্ব। নবুওয়ত পাওয়ার পরপরই মানুষকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবি সা.-কে নির্দেশ প্রদান করেন (সুরা মুদ্দাসসির)। এই সতর্কীকরণ ও দাওয়াতের কাজ কিয়ামত পর্যন্ত নবি মুহাম্মদ সা.-এর উত্তরাধিকাররা করে যাবে এবং এর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ। আমরা সুরা আসর পড়ে সেটিই উপলব্ধি...

সংকীর্ণতার সাথে আছে প্রশস্ততা

বড় দুঃসময়ে রসুলল্লাহ সা.-কে সান্ত্বনা দিয়ে সুরা আলাম নাশরাহে আল্লাহপাক বলেছেন, 'আসলে সংকীর্ণতার সাথে প্রশস্ততাও রয়েছে। নিশ্চয়ই সংকীর্ণতার সাথে আছে প্রশস্ততা। অতএব তুমি যখনই অবসর পাও ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং তোমার রবের প্রতি মনোযোগী হও'- সুরা আলাম নাশরাহ ৫-৮। রসুলুল্লাহ সা. নবুয়তের পূর্বে তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের ছিলেন নয়নের মণি। নবুয়তের দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে হয়ে পড়লেন তাদের ভয়ানক শত্রু। মক্কার কঠিন সেই কঠিন মুহুর্তে আল্লাহপাক তাঁর রসুল সা.-কে এই সুরার মাধ্যমে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আল্লাহর এই বাণী কেবল রসুলল্লাহ সা. এবং সেই সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। সকল মানুষ সবসময়ের জন্য এখন থেকে প্রেরণা পাবে। নিরবচ্ছিন্ন সুখ বা দুঃখ বলে কিছু নেই। সুখের সময়ে আমরা যেমন আল্লাহকে ভুলে যাব না আবার দুঃখ-কষ্ট বেদনায় ভেঙ্গে পড়বো না, হতাশ হবো না। আল্লাহর ওয়াদা সংকীর্ণতার পরে নয়, সংকীর্ণতার সাথে সাথেই রয়েছে প্রশস্ততা এবং এটি তিনি বলেছেন দুইবার। দুঃখ বেশিদিন স্থায়ী হয় না। মানুষের জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, বিয়েসাদী, সংসার নানাক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সমস্যায় ধৈর্য ধারণের...

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবি সা.

গতকাল সিরাতুন্নবি সা. উপলক্ষে অনলাইনভিত্তিক এক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরীর আলোচনা থেকে- তিনি বলেন, নর ও নারীর সৃষ্টি একই উৎস থেকে। আল্লাহপাক আদম আ.-এর সৃষ্টির মাধ্যমে মানবজাতির সূচনা করেন। সৃষ্টির পর আদম আ. বড় একাকীত্ব অনুভব করেন। চারদিকে এক শূন্যতা। এমন সময়ে আল্লাহ তায়ালা আদম আ.-এর বাম পাঁজরের হাড় থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করেন। হাওয়া আ.-কে দেখে আদম আ. উৎফুল্ল হয়ে উঠেন। আল্লাহ তাঁদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন করে দেন। শুরু হয় আদি পিতা ও আদি মাতার একত্রে পথচলা। নারী জাতির সম্মান ও মর্যাদা অতি উচ্চে তুলে ধরেছেন স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রসুল সা.। সুরা লোকমানে আল্লাহ পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের কথা সাধারণভাবে বলার পর আলাদাভাবে মা'র কথা বলেছেন। মা সন্তান ধারণের ফলে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করেন এবং এরপর দুধপান করান। রসুলল্লাহ সা. কাছে সদাচরণের বেশি হকদার কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোমার মা। আবার জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তোমার মা। আবার জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তোমার মা। এরপর জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তোমার বাবা। এখানে বাবা অপেক্ষা মা'র মর্যাদা তিনগুণ বেশি বলা হয়েছে। সম্পদ...

সাহিত্য ও সংস্কৃতি জীবনেরই অংশ

গান-বাজনা, নৃত্য, খেলাধূলা সুদূর প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। রসুলুল্লাহ সা.-এর সময়কালে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। গত ৫ নভেম্বর সিরাতুন্নবি সা. উপলক্ষে দিনব্যাপী আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বরেণ্য আলেম মাওলানা ফখরুদ্দিন নবি সা.-এর জীবনে সংস্কৃতি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রসুলল্লাহ সা.-এর ঘরে ঈদের দিন মদিনার শিশুদের গান গাওয়ার উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি নিষেধ না করে উৎসাহ যুগিয়েছেন। বাজনা পরিহার করে এবং অশ্লীলতা মুক্ত হয়ে গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য চর্চা ইসলামে নিষেধ নয় বরং উৎসাহ যুগিয়ে থাকে। খেলাধূলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উম্মাহর জননী মা আয়েশা রা.রসুলুল্লাহ সা.-এর পেছনে দাঁড়িয়ে হাবশিদের খেলাধূলা উপভোগের বর্ণনা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে বর্ণনাটা এভাবে এসেছে যে দু'জনের গাল পরস্পর লেগেছিল। তিনি বলেন, শরীয়তের সীমা মেনে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধূলা সবই জায়েজ। শর্ত, অশ্লীলতা বর্জিত হতে হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা (ফরজ) লঙ্ঘিত হবে না। মাওলানা ফখরুদ্দিন সাহেবের বক্তৃতা থেকে।

জন দুর্ভোগ চরমে। আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে চাই।

টানা তিনদিন পরিবহন ধর্মঘটের পর আগামীকাল থেকে ২৭% ভাড়া বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ধর্মঘটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আজকে একটু রাস্তায় বের হয়েছিলাম। দেখলাম সাধারণ মানুষের কী নিদারুণ কষ্ট। রাস্তায় প্রচুর লোকজন। বিআরটিসির বাস পেলে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এর বিপরীতে রাস্তায় প্রচুর প্রাইভেট। সেই যানজট। এতো গাড়ির উৎস কী? এক শ্রেণির অসৎ মানুষের কাছে অঢেল টাকা পয়সা, বেহিসেবী অর্থ। অসৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীর সাথে রয়েছে রাজনীতিক টাউট-বাটপার। রাজনীতি এখন আর সেবা নয়, এখন হয়েছে অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। গ্রাম-গঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হতো একটি উৎসবের আমেজ নিয়ে। সেটি শেষ। এখন আর জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নেই, দায়বদ্ধতা দলের কাছে। কোনোভাবে একটি দলীয় টিকেট বাগাতে পারলেই হলো। জুলাই মাস থেকে নতুন আর্থিক বছর শুরু হয়। আমরা দেখেছি, বাজেট ঘোষণার পরে কোনো কোনো পণ্যের দাম বাড়ে। যখন তখন দাম বাড়া একটা দুর্বল সরকারের লক্ষ্মণ। সব পণ্যেরই দাম বাড়ছে। ২০০/- টাকার সোনালি মুরগির দাম সামান্য ব্যবধানে ৩০০/-, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম প্রা...

আসুন, আমরা একটু অনুভব করি

আমরা যদি মারা যাই বা আমাদেরকে হত্যা করা হয় তখন আমরা কোথায় যাব? সবাই সমস্বরে বলবেন, কেন- আমরা তো আল্লাহরই কাছে ফিরে যাব। আমরা তো প্রতিনিয়তই পড়ি- 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রজেউন।' আমার দাদা-দাদী, নানা-নানি আরো কতো আত্মীয়-স্বজনকে নিজ হাতে কবর দিয়েছি। তাই আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার (মৃত্যুর) ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কারো কোনো সন্দেহ ও সংশয় নেই। আল্লাহর কাছে ফিরে যাব। একজন বিশ্বাসী বান্দা আল্লাহকে জানে ও অনুভব করে তার অভিভাবক, বন্ধু ও দরদী হিসেবে। পিতামাতা দরদী, স্বামী-স্ত্রী পরস্পর দরদী- এটা যেমন সত্য সাথে সাথে এটাও ঠিক আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য সবার চেয়ে বেশি দরদী। বান্দার প্রতি আল্লাহর দরদ ও ভালোবাসার কোনো তুলনা নেই, এই ভালোবাসার কোনো সীমা-পরিসীমাও নেই। এখন কোনো সন্তানকে যদি বলা হয়- তুমি তোমার বাবা-মার কাছে ফিরে যাবে? সে তখন লাফিয়ে উঠে বলবে- হ্যাঁ, কেন নয়? ঠিক তেমনি আমরা তো আল্লাহর কাছে ফিরে যাব মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি দরদী আল্লাহ আমাদের সাথে সর্বোত্তম ব্যবহারটাই করবেন। আমরা জান্নাতের প্রত্যাশা করি, তা তো মৃত্যুর পরেই লাভ করা সম্ভব। তাই মৃ...

বান্দার হক আদায়ের গুরুত্ব

  হাদিসের পাঠ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। রসুলল্লাহ সা. বলেছেন, কারো কাছে যদি তার ভাইয়ের কোনো পাওনা থাকে (যদি তার প্রতি সে কোনো জুলুম করে থাকে) তাহলে সে যেন তা মিটিয়ে দেয়। কেননা যখন তার নেকি থেকে তার ভাইয়ের এই হক আদায় করে হবে তখন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। আর তখন যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তাহলে তার ভাইয়ের পাপগুলো এনে তার উপর চাপানো হবে। বুখারি এই সমাজে প্রতিনিয়ত মানুষ মানুষের হক নষ্ট করছে। মানুষকে গালি দিয়ে, চড় থাপ্পড় মারে, ঘুষের মাধ্যমে, ওজনে কম-বেশি করে, ধোকা-প্রতারণা করে বা নানা কায়দায় মানুষের প্রতি জুলুম করছে। সকল জুলুমের বদলা আদায় করে মজলুমকে সেদিন প্রদান করা হবে। মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের ব্যাংক ব্যালেন্স, এটিএম কার্ড বা লেনদেনের যত মাধ্যম আছে, নগদ টাকা পয়সা, স্বর্ণ-রৌপ্য সবই দুনিয়ায় রেখে যেতে হবে, কোনো কিছু সাথে নেয়া যাবে না। সাথে যাবে কেবল আমল। এ দুনিয়ায় পারস্পরিক লেনদেন মিটিয়ে না গেলে কিয়ামতের দিন অপরের পাওনা মেটানো হবে নেক আমল দিয়ে। যদি তাতে না মেটে তাহলে মজলুমের পাপসমূহ জালেমের ঘাড়ে চাপানো হবে। অন্য হাদিসে জালেমকে সবচেয়ে দরিদ্র বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ...