Skip to main content

Posts

প্রফেসর শেখ আব্দুর রউফ

  স্যারের বাসায় আমরা সস্ত্রীক। দুপুরের দাওয়াতে স্যারের বউমাদের অনেক আয়োজন। ৮৬ বছর বয়সেও স্যার একজন তরতাজা তরুণ। প্রতিদিন এক ঘন্টা হাঁটেন। নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন এবং রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। সুস্থতার জন্য যা করণীয় স্যার তা করেন এবং নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করেন ও বুঝে বুঝে কুরআন পড়েন। আমার স্যার প্রফেসর শেখ আব্দুর রউফ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে প্রায় তিন বছর (০১.০৩.৯৬- ২৭.০১.৯৯) কর্মরত ছিলেন। স্যারকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে সহকর্মী এবং নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে পেয়েছিলাম। স্যারকে অত্যন্ত সৎ ও সজ্জন হিসেবে আমরা সবাই জানি। স্যারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং সাত নাতি-নাতনির দাদা ও নানা। আল্লাহ তায়ালা স্যার ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহম করুন।

নড়াইলের আর একজন দায়ী

  মাওলানা মির্জা আশেক এলাহী একজন দায়ী ইলাল্লাহ। ৭৯ বছর বয়সে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা থাকলেও এখনো দীনের কাজে সক্রিয়। কর্মজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম ছিলেন। তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা জেসমিন (নড়াইলের মহিলা অঙ্গনে সবার পরিচিত বুলু আপা) কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। এই শিক্ষক দম্পতির নড়াইলে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রয়েছে। মাওলানা আশেক এলাহী একসময় জামায়াতের জেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হাসিনা সরকারের আমলে নয় মাস কারাগারে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা জেসমিনও জেল খেটেছেন। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী অঞ্চল টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এই দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এবং ছেলে- মেয়েদের ঘরে দশ নাতি-নাতনি নিয়ে এক সুখী জীবন যাপন করছেন। আমরা আশেক এলাহী ও হোসনে আরা দম্পতি ও তাঁদের পরিবারের জন্য আল্লাহ তায়ালার রহমত কামনা করি।

বিশ বছর পর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে

  নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে আমার কর্মকাল (১৯৯৬-২০০৪) আট বছর। ছিলাম ঐ কলেজের শিক্ষক পরিষদ ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সম্পাদক। আমার আট বছরের কার্যকালে অধ্যক্ষ হিসেবে পেয়েছিলাম প্রফেসর মো. আব্দুল গফুর (মরহুম), প্রফেসর শেখ মো. আব্দুর রউফ, প্রফেসর মো. রুস্তম আলী শিকদার, প্রফেসর মো. আহমদ আলী সরদার (মরহুম), প্রফেসর ঘোষ মধুসূদন, প্রফেসর মো. আব্দুল হাই (মরহুম), প্রফেসর মো. নূরুল ইসলাম ও প্রফেসর ফিরোজ আহামদ। এছাড়া অনেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদ লতিফ এবং প্রফেসর অসীম কুমার সরকার (পদার্থবিজ্ঞান) ও জনাব মো. হায়দার আলী দেওয়ান ( সহযোগী অধ্যাপক, গণিত)-কে পেলাম। কর্মচারীদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা, কল্যাণ কুমার ও মোহাম্মদ আলী রয়েছে। তাদের সাথে ছবি উঠালাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার দু'জন সহকর্মীসহ ছবি লক্ষ করছি না। কলেজে বর্তমানে অধ্যক্ষ হিসেবে প্রফেসর মো. শহীদ লতিফ, উপাধ্যক্ষ ড. মো. রবিউল ইসলাম এবং সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস দায়িত্ব পালন করছেন। নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এক ঐতিহ্যবাহী কলেজ। কলেজে অবকাঠামোগত কোনো স...

এক রাহেলা আপার গল্প

মানুষটি দরিদ্র কিন্তু মনটা বড়ো উদার এবং এটিই স্বাভাবিক। ইসলাম মানুষকে উদার করে। ধনী-দরিদ্র কোনো বৈষম্য ইসলাম স্বীকার করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি হলো তার তাকওয়া। এদিক দিয়ে রাহেলা আপা অনন্যা। নড়াইলের মাটিতে তিনি প্রথম দিকের ইসলামী আন্দোলনের কর্মী। আজ সকালে মাওলানা আশেক এলাহী ভাইয়ের বাসায় আপার সাথে কথা হলো। বয়স নব্বই ঊর্ধ্বে কিন্তু দীনের কাজে অত্যন্ত সক্রিয়। ১৯৭৪ সনে তিনি জামায়াতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সনে রুকন হয়েছেন। মহিলা অঙ্গনে রাহেলা আপা দ্বিতীয় রুকন। প্রথম রোকন হলেন হোসনে আরা জেসমিন (বুলু আপা)। রাহেলা আপার আট ছেলে-মেয়ে। পরিবারটি পুরোপুরি ইসলামী আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাঁর ছেলে-ছেলেবৌ এবং মেয়ে ও মেয়ে-জামাই মিলে মোট এগারো জন রুকন। এটা একটা বিরল দৃষ্টান্ত। নড়াইলে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এই পরিবারটি এক প্রেরণা এবং পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। বিশ বছর পরে নড়াইল এসে গতকাল আমার স্ত্রীসহ চারজন বুলু আপার নেতৃত্বে রাহেলা আপাকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাদের এই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কেবল আল্লাহরই জন্য। ১৯৮৯ সালের সেই দু'জন রুকন থেকে এখন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ শতাধিক। আলহামদু লিল...

কে বলে আমরা এক বিশ্বাসী জাতি?

মদ-জুয়া, চুরি-ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি, নগ্নতা- বেয়াহাপনার এক সয়লাব বয়ে চলেছে আমাদের এই প্রিয় দেশে। অথচ এই দেশের শতকরা নব্বই জন মুসলিম, আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী। এ সব অপকর্ম সবই হারাম ও কবিরা গুনাহ এবং পরিণতি জাহান্নাম। সর্ষেকণা ঈমান রয়েছে এমন কারো পক্ষে এসব পাপাচারে জড়িত হওয়া সম্ভব নয়। দেশে এসব সর্বনাশা অপরাধ সংঘটন আমাদের ঈমানহীনতারই পরিচয় বহন করে। তওবা করে নিজেকে সংশোধন করে নেয়া ছাড়া নাজাতের কোনো পথ নেই। দেশের সাধারণ মানুষ বড়ো বড়ো অপকর্মের সাথে জড়িত নয়। সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ও কাছের মানুষগুলোই এসব পাপাচারে লিপ্ত। জনস্বার্থ বিরোধী বা জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হওয়া অনেক বড়ো অপরাধ এবং এর শাস্তিও ভয়াবহ। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘আপনার দৃষ্টিতে ভয়াবহ অপরাধ কোনটি?’ আমি বলবো, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করে দেয়া ও জনগণের অধিকার হরণ করা। এতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ফাঁসি দিয়ে এ জঘন্য অপরাধের প্রায়শ্চিত্য সম্ভব নয়। প্রায়শ্চিত্য তখনই সম্ভব, যখন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা খালেছ দিলে তওবা করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। আল্লাহপাক নারী জাতির জন্য জান্নাতে যাওয়ার প...

একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় রসুলুল্লাহ সা.

  (★ প্রবন্ধটি সিরাতুন্নবি সা. উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পঠিত।) মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বা বৈষম্য সুদূর অতীত থেকে চলে এসেছে। এই বৈষম্য সংকীর্ণ জাতীয়তা ছাড়াও ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-লিঙ্গ নানাভাবে সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যের ফলে মানুষে মানুষে আশরাফ-আতরাফ (শ্রেষ্ঠ-নিকৃষ্ট) ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে। এই বৈষম্য স্রেফ জন্মগত যাতে স্রষ্টার ইচ্ছা ছাড়া মানুষের কোনো হাত নেই। এমন অবস্থায় মনে করা হয়, একজন ইংরেজ বা আমেরিকান বা আরব বা শ্বেতাঙ্গ অতএব সে শ্রেষ্ঠ পক্ষান্তরে একজন আফ্রিকান, উপজাতি বা কৃষ্ণাঙ্গ অতএব সে নিকৃষ্ট। জন্মের ভিত্তিতে উত্তম -অনুত্তম বৈষম্য না রেখে মহান আল্লাহপাক স্পষ্ট করেছেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হলো তার নৈতিক মান ও চরিত্রে। চরিত্রের দিক দিয়ে যে উত্তম সেই উত্তম। আমাদের স্রষ্টা ও মালিক মহান আল্লাহ মানুষের তৈরি সকল বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে ঘোষণা করেছেন, সমগ্র মানবজাতি একই উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে। দেশভিত্তিক জাতীয়তা বা ধর্ম -বর্ণ-ভাষা-লিঙ্গ সবকিছু মিলে একটিই পরিচিতি এবং সেটি হলো মানবজাতি। আল্লাহর বাণী, ‘হে মানবজাতি, আমি তোমাদের একজন পুরুষ এবং একজন নারী...

বিশ বছর পর নড়াইলের মাটিতে

সময়টা বেশ দীর্ঘ। নড়াইল শহরের অনেক পরিবর্তন। চিত্রা নদীর উপরে দুটি ব্রিজ, কালনা ব্রিজ এবং পদ্মাসেতু হওয়ায় নড়াইল ঢাকার খুব কাছাকাছি। ২০শে সেপ্টেম্বর নড়াইল এক্সপ্রেসে রূপগঞ্জে পৌঁছলে মাস্টার জাকির ভাই রিসিভ করে তাঁর বাসায় নেন। ঘরে স্ত্রী নেই (স্বল্প সময়ে স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছে) তারপরও ছেলেমেয়েদের যত্নের কোনো ঘাটতি নেই। পরিবারটি পুরোপুরি ইসলামী আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট। জাকির ভাইয়ের স্ত্রী জামায়াতের রুকন ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল খেদমত কবুল করে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করুন এবং পরিবারের প্রতি রহম করুন। জুমার নামাজ আদায় করি নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। অনেক স্মৃতি। পুরাতন স্থাপনা ভেঙ্গে বর্তমান রূপ গ্রহণ করা যাদের হাত ধরে তন্মধ্যে অন্যতম সম্পাদক কাজী ইসমাইল হোসেন লিটন ভাই, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাই এবং আমি ছিলাম অর্থ সম্পাদক। আমরা সবাই ছিলাম মসজিদ মিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট। সেসময়ে মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি গঠনতন্ত্রও প্রণয়ন করা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মুফতি আশরাফ আলী মসজিদ মিশনের সভাপতি এবং আমি ছিলাম সম্পাদক। এই মসজিদ ছিল আমাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র। খতিব মহোদয়ের জুমা বক্তৃত...