Skip to main content

Posts

We want Justice

  এবারের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এটি ছিল মূল চাওয়া। সর্বত্রই অনিয়ম, অপ্রাপ্তি, জুলুম, জবরদখল, চাঁদাবাজি এহেন অপরাধ অপকর্ম নেই যা আমাদের এই প্রিয় দেশটিতে নেই। মাত্র জালেম পালিয়েছে কিন্তু জুলুম সমাজ থাকে দূর হয়নি। সবার আকাঙ্ক্ষা, জালেমের পরিবর্তন নয় অর্থাৎ এক জালেমকে সরিয়ে আর এক জালেম নয়, সবার চাওয়া জালেম আসার পথ চিরতরে বন্ধ হোক। এজন্যই দরকার সংস্কার। এটি অবশ্যই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। পাহাড় সম জঞ্জাল। ড. ইউনূসের সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের আন্দোলনের ফসল নয়। সমাজে বৈষম্য, অবিচার ও নানাবিধ জুলুম-নির্যাতন থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে তা চিহ্নিত করে দূর করার লক্ষ্যে সংস্কার সবে শুরু হয়েছে। এখন প্রয়োজন আন্তরিকভাবে সবার এগিয়ে আসা। সকলেই মনে করে, দেশে বড়ো সংকট গণতন্ত্রের। মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ভোটাধিকার কি শুধুই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিষয়? দলীয় পর্যায়ে কি ভোটের অধিকার প্রয়োগ সকল দল নিশ্চিত করতে পারছে? আমার মনে হয় গণতন্ত্র চর্চা শুরু হোক রাজনৈতিক দলসমূহ থেকে। গতকালের এ...

জুমা আলোচনা কুচিয়ামোড়া বাজার জামে মসজিদ তারিখ : ১৮.১০.২০২৪

  বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত জীবন যাপনের মধ্যেই রয়েছে নাজাত আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ সম্প্রতি দেশে এক আমূল পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তায় পড়ে গিয়ে আমার স্ত্রী পায়ে আঘাত পাওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক দীর্ঘদিন আপনাদের মাঝ থেকে অনুপস্থিত ছিলাম। দেশটা জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছিল। দেশের আলেম সমাজ ও ঈমানদার জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছিল। বিশেষ কোনো দল নয় সকল ঘরোনার আলেম-উলামা ও ঈমানদাররাই নির্যাতিত হয়েছেন। জামায়াত, হেফাজত, চরমোনাই কেহই জুলুম থেকে বাদ যায়নি। ৫ই মে হেফাজতে ইসলামীর ওপর হত্যাযজ্ঞ মানুষ কখনও ভুলবে না। সেদিন কতজন শহিদ হয়েছে সে হিসাবটাও জাতি জানে না। উলামায়ে কেরাম রসুলুল্লাহ সা.-এর ওয়ারিশ। আল্লাহর রসুল (সা.) কোনো অর্থবিত্ত রেখে যাননি, তাঁরা রেখে গিয়েছেন ইলম। এই ইলমের কারণেই আলেমরা সম্মানিত। নবির (সা.) ওয়ারিশ আলেম ও ঈমানদারদের প্রতি জুলুম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। ঐ জালেমরা নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর শত্রু এবং সাথে সাথে আল্লাহপাকেরও শত্রু। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা ঈমানদার নর ও নারীকে যারা কষ্ট দেয় অতঃপর তওবা করে না তাদের জন্য রয়ে...

কথপোকথন

  আজ সকালে কথা হলো যশোরে আমার এক পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বের সাথে। আমরা পরস্পরের প্রতি খুব দরদ ও ভালোবাসা অনুভব করি। কথা হলো ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় নিয়ে। আন্দোলন তুঙ্গে, তখনও আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি যে স্বৈরাচারের এমন পতন হবে। ১লা আগস্ট যখন জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি হলো তখন মনে হলো আমাদের বাকি জীবন হয় জেলখানায় নয়তো লুকিয়ে লুকিয়ে কাটিয়ে একদিন দুনিয়া থেকে হারিয়ে যেতে হবে। আমরা বুঝতে না পারলেও আমিরে জামায়াতের কাছে স্বৈরাচারের পতন স্পষ্ট ছিল। ১৫ জুলাই পরে অনলাইনে এক সভায় আশ্বস্ত করেছিলেন, মুক্তি মিলবেই ইনশা-আল্লাহ। ছাত্র- জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে সাথে বললেন, স্বৈরাচারের পতন দেখে মনে হয়েছে আল্লাহপাক কাবা ঘর ভাংতে আসা আবরাহা বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য পাঠিয়েছিলেন আবাবিল (ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি)। এ যেন তারই সদৃশ। আল্লাহপাক আন্দোলনকারী সকলকে (মৃত ও জীবিত) তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করে রাখুন। দ্বিতীয়ত, ঢাবিতে শিবিরের গোপন থাকা প্রসঙ্গে বললেন, ইউসুফ (আ.)-কে দিয়ে খেদমত নেয়ার লক্ষ্যে আল্লাহপাক তাঁর ভাইদের দ্বারা কূপে নিক্ষেপ এবং সেখান থেকে মি...

জুমার খুতবা ২৫.১০.২০২৪ হালাল উপার্জন ইবাদতের পূর্বশর্ত

  বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম মাল্টিপ্ল্যান রেডক্রিসেন্ট সিটি (কুশিয়ারা, পদ্মা ও সুরমা ভবন), মিরপুর জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ সাইয়াফ শুরুতে আল্লাহপাকের হামদ ও রসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন। হালাল উপার্জন প্রসঙ্গে খতিব মহোদয় বলেন, অন্যায় পথে আয় ও ব্যয় আল্লাহপাক হারাম করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কুরআন থেকে অনেকগুলো আয়াত উদ্ধৃত করেন- ‘হে মানবকূল! তোমরা পৃথিবীতে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’- সূরা বাকারা ১৬৮ নং আয়াত। ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে খেয়ো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও’- সূরা বাকারা ১৮৮ নং আয়াত। ‘হে মুমিনরা! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করো না, তবে পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসা করা বৈধ, তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে এমন কাজ করলে তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, তা আল্ল...

জামায়াতের এক বর্ণাঢ্য আয়োজন

  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সকালে অনুষ্ঠিত হয় শহিদ পরিবারের সাথে মতবিনিময়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুহতারাম আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর পর থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হয় মহানগরী উত্তরের নবনির্বাচিত আমির জনাব মো. সেলিম উদ্দীনের শপথ অনুষ্ঠান। এক ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আমিরে জামায়াতের পক্ষে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার শপথ পাঠ করান। প্রধান অতিথি নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সূরা নেসার ৩৬ নং আয়াত পাঠ করে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং সমবেত রুকনদের নিকট থেকে পাঁচটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। ১. ঋণমুক্ত জীবন যাপন করা। ২. সদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা। ৩. রক্তসম্পর্ক ছিন্ন না করা। ৪. মানুষের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নেয়া। ৫. অধীনস্হদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। ৬. গিবত না করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী উত্তরের আমির জনাব মো. সেলিম উদ্দীন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাখা সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। ★ ২০১৬ সনে মহানগরী দু'ভাগে বিভক্ত হয়। ২৭২৮ জন রুকন নিয়ে যাত্রা শুরু...

লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

  ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আজকের প্রতিবাদ সভা শুরু করার পূর্বেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট পরিপূর্ণ হয়ে রাস্তা ভর্তি হয়ে গেছে। আলহামদু লিল্লাহ। আল্লাহপাক সকল ভাইয়ের শাহাদাত কবুল করুন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সম্মানিত আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন মহানগরী দক্ষিণের সম্মানিত আমির জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল। পরিচালনা করেন শাখা সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রথম বক্তা শহীদ শিপন -এর গর্বিত পিতা জনাব তাজুল ইসলাম। লগি-বৈঠার তাণ্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের আজকের সমাবেশে জাতীয় নেতৃবৃন্দের এক মিলনমেলা হয়ে গেল। ১৪ দলীয় জোট ও তার দোসর জাতীয় পার্টির বাইরে বলা যায় অধিকাংশ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন। বিএনপির মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালাম, মাহমুদুর রহমান মান্না (জামায়াতের প্রথম মিটিং) গণ অধিকার পরিষদের দু'জন, জাগপা, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখা হয়েছে। জামায়াতের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন। সকল বক্তাই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ২০০৬ সালের ২৮ অক...

দরসুল কুরআন সূরা আন নিসা (আয়াত নং ৩৬)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর বন্দেগি করো। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। বাপ-মা’র সাথে ভালো ব্যবহার করো। নিকটাত্মীয় ও এতিম- মিসকিনদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্বসাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাধীন বাঁদী ও গোলামদের প্রতি সদয় ব্যবহার করো। নিশ্চিত জেনে রাখো, আল্লাহ এমন কোনো ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না যে আত্মঅহংকারে ধরাকে সরা জ্ঞান করে এবং নিজের বড়াই করে।’ নামকরণ : এই সূরায় বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সূরাগুলোয় সাধারণত বিষয়ভিত্তিক কোনো শিরোনাম নির্ধারণ না করে চিহ্নস্বরূপ নামকরণ করা হয় এবং এভাবে এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা আন নিসা অর্থাৎ এটি সেই সুরা যাতে নিসা বা রমণী শব্দটি উল্লেখ রয়েছে। নাজিলের সময়কাল : মদিনায় অবতীর্ণ। বিভিন্ন সময়ে ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দেশনা হিসেবে নাজিল হয়েছে। তৃতীয় হিজরির শেষ থেকে চতুর্থ হিজরির শেষ দিকে বা পঞ্চম হিজরির প্রথম দিকে অবতীর্ণ হয়েছে। বিষয়বস্তু : কোনো একক বিষয় নয় বরং মদিনায় ইসলাম একটি রাষ্ট্রীয় দীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করায় শরিয়তের বিধি-বিধান সেখানেই নাজিল হয় এবং সেটি প...